সড়ক নয় যেন মৃত্যুফাঁদ, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল

চাঁদপুরের মতলব-গৌরীপুর-পেন্নাই সড়কের নারায়ণপুর বাজার এলাকায় পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত। সড়কের দীর্ঘ অংশ ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় তা এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বছরের পর বছর এই বেহাল সড়ক দিয়ে যাত্রী ও চালকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ব্যস্ততম সড়কটি যেন এখন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন করুণ দশা থাকলেও কোনো নজর নেই কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে উপজেলার নারায়ণপুর সাহাবাড়ির মোড় এবং নারায়ণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত অংশটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। মাঝেমধ্যে গর্তে কিছু ইট-সুরকি ফেলা হলেও বৃষ্টিতে তা ধুয়ে-মুছে গিয়ে পুনরায় আগের অবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে এই পথ ব্যবহারকারী যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী।
সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণপুর বাজার সংলগ্ন সাহাবাড়ির মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকার বেশকিছু স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকলে গর্তের গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এর মাঝেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেটকার, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। গর্তের কারণে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকছে, যা যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল আলম বলেন, আমরা প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। বর্তমানে সড়কটির যে অবস্থা, তাতে এটি আর চলাচলের যোগ্য নেই।
স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রতিদিন বহু স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীকে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। খানাখন্দ ও যানজটের কারণে প্রায়ই তাদের সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এ ছাড়া প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।
যানবাহন চালক আশরাফ আলী বলেন, এই ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালানো অসম্ভব বললেই চলে। পেটের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। পানি জমে থাকা গর্তের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতি মুহূর্তে ভয় হয়—এই বুঝি গাড়ি উল্টে গেল!
এ বিষয়ে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, সড়কের যেসব অংশে গর্ত ও ভাঙা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






