প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এইচএসসি পরীক্ষা, সমালোচনার মুখে শিক্ষামন্ত্রী

দেশজুড়ে চলমান তীব্র বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার মাঝেই উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ এবং অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন তিনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে শুরু হওয়া পরীক্ষার আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের কয়েকটি বিভাগে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি মাড়িয়ে, কিংবা দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দিয়ে নৌকা, রিকশা বা ভ্যানে করে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থী ভিজে যাওয়া প্রবেশপত্র ও খাতা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে (সাবেক টুইটার) সকাল থেকেই এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন নেটিজেনরা। কোমর সমান পানি ডিঙিয়ে কেন্দ্রে যাওয়া পরীক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে অনেকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কিংবা পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছেন।
অভিভাবকরা বলছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা উচিত ছিল। শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে পরীক্ষা নেওয়া এক ধরণের নিষ্ঠুরতা।
সাদমান আব্দুল্লাহ নামের একজন ফেসবুকে লেখেন, এই বৈরি আবহাওয়ায় কোনভাবেই এইচএসসি পরীক্ষা হতে পারে না। শিক্ষামন্ত্রীর এরকম একরোখা মনোভাব এতোগুলো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে ক্ষতির মুখে ফেলছে। দ্রুত এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার লেখেন, আজকের এইচএসসি পরীক্ষাটি চাইলেই অন্য কোনো ছুটির দিনে স্থানান্তর করা যেত; কিন্তু তারেক রহমান সরকার জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নিল। জনবিচ্ছিন্ন লোকজন বিদেশ থেকে এসে দেশের মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বুঝবেন না এটাই স্বাভাবিক। তাদের এই অদক্ষতার জন্য এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বড় ধরনের ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি ইতোমধ্যেই পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে বিবৃতিতও দিয়েছে।
যেহেতু সারাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলমান আছে, তাই পরীক্ষা স্থগিতের ব্যাপারে সরকারের আরও ভাবা উচিত বলে মনে করেন পরীক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন মহল। এ ব্যাপারে তারা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।




