এতিম কন্যার বিয়েতে অভিভাবক হলেন জেলা প্রশাসক

পিরোজপুরে প্রথমবারের মতো সরকারি শিশু পরিবারে এক এতিম কন্যার বিয়ের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন ও সমাজ সেবা অধিদপ্তর।
রোববার (১৩ জুলাই) রাতে পিরোজপুর সরকারি শিশু পরিবার ক্যাম্পাসে জাঁকজমক আয়োজনে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় কনের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। তিনি কনে সুহানি আক্তারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরের হাতে তুলে দেন।
পিতামাতাহীন সুহানি আক্তার ২০১৫ সালে সরকারি শিশু পরিবারে আশ্রয় পান। সেখানে তিনি বেড়ে ওঠেন। পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামের রাকিব শেখের সঙ্গে এক লাখ এক টাকা দেনমোহরে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, সমাজসেবা অধিদপ্তর পিরোজপুরের উপপরিচালক মো. ইকবাল করিম, সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক শাবানা খানমসহ জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।

বিয়েকে ঘিরে সরকারি শিশু পরিবারে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে বসবাসরত এতিম ও দুস্থ শিশুরা তাদের সহপাঠীর নতুন জীবনের সূচনাকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। হাসি, শুভেচ্ছা ও আবেগে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শিশু পরিবার ক্যাম্পাস।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, আজকের এই আয়োজন শুধু একটি বিয়ের অনুষ্ঠান নয়, এটি মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পিতামাতাহীন একটি মেয়ের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি শিশু পরিবারে বেড়ে ওঠা প্রতিটি শিশুই রাষ্ট্রের সন্তান। তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ও সম্মানজনক জীবনের ব্যবস্থা করা আমাদের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। সুহানি আক্তারের নতুন জীবনের জন্য আন্তরিক শুভকামনা জানাই।
জেলা প্রশাসক বলেন, আশা করি, নবদম্পতি পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ পরিবার গড়ে তুলবেন। ভবিষ্যতেও জেলা প্রশাসন সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করে যাবে।





