Advertisement

ডায়াবেটিস থাকলে খালি পেটে এড়িয়ে চলবেন যেসব খাবার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ডায়াবেটিস থাকলে খালি পেটে এড়িয়ে চলবেন যেসব খাবার
সুস্বাস্থ্যের জন্য সকালের স্বাস্থ্যকর রুটিন গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য দিনের প্রথম খাবারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সকালে খালি পেটে কী খাচ্ছেন, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে সারা দিনের রক্তে শর্করার ওঠানামা। অনেকেই না জেনে এমন কিছু খাবার খেয়ে ফেলেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে ক্ষুধা, ক্লান্তি, দুর্বলতা বা অস্বস্তির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই শুধু কী খাবেন তা নয়, খালি পেটে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন, সেটিও জানা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাশতায় এমন খাবার বেছে নেওয়া উচিত যাতে জটিল শর্করা, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং আঁশের সুষম সমন্বয় থাকে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূত হয়। অন্যদিকে কিছু খাবার খালি পেটে খেলে রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে দিনের শুরুতে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা ভালো, তা জেনে রাখা প্রয়োজন।

চিনিযুক্ত পানীয়

প্যাকেটজাত ফলের রস, কোমল পানীয়, মিষ্টি কফি বা চিনি মেশানো পানীয় দিয়ে দিন শুরু করা উচিত নয়। এগুলোতে প্রচুর চিনি থাকলেও আঁশ ও প্রোটিন খুব কম থাকে। ফলে খালি পেটে এগুলো খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

পরিশোধিত ময়দার খাবার

সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, ক্রসোঁ বা ময়দার তৈরি অন্যান্য খাবার দ্রুত হজম হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এতে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর পরিবর্তে আটার রুটি, ওটস বা অন্যান্য পূর্ণ শস্যের খাবার ভালো বিকল্প।

পাকা কলা

কলা পুষ্টিকর ফল হলেও খুব পাকা কলায় প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। খালি পেটে শুধু কলা খেলে অনেকের রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। যদি কলা খেতে চান, তাহলে বাদাম, দই বা অন্য কোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে খাওয়াই ভালো।

শুধু কফি

অনেকের অভ্যাস সকালে খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করা। কিন্তু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন সাময়িকভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। পাশাপাশি এটি পাকস্থলীতে অ্যাসিডও বাড়াতে পারে। তাই কফি খেলে সঙ্গে স্বাস্থ্যকর কোনো নাশতা রাখাই ভালো।

টক জাতীয় ফল

কমলা, মাল্টা বা অন্যান্য লেবুজাতীয় ফল ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস। তবে খালি পেটে এগুলো খেলে কিছু মানুষের পাকস্থলীতে অস্বস্তি হতে পারে। তাই এগুলো খাবারের অংশ হিসেবে বা পরে খাওয়াই ভালো।

ফ্লেভারযুক্ত দই

দই স্বাস্থ্যকর হলেও বাজারে পাওয়া অনেক ফ্লেভারযুক্ত দইয়ে অতিরিক্ত চিনি থাকে। খালি পেটে এগুলো খেলে সেই চিনি দ্রুত শরীরে শোষিত হতে পারে। এর পরিবর্তে চিনি ছাড়া টক দইয়ের সঙ্গে বাদাম বা বীজ যোগ করে খেতে পারেন।

ভাজাপোড়া খাবার

পরোটা, পুরি, পকোড়া বা অন্যান্য তেলেভাজা খাবার দিয়ে দিনের শুরু করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো নয়। এগুলোতে স্বাস্থ্যকর আঁশ কম এবং চর্বি বেশি থাকায় হজম ধীর হতে পারে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এনার্জি বার

অনেকেই এনার্জি বারকে স্বাস্থ্যকর মনে করেন। কিন্তু বাজারে পাওয়া অনেক এনার্জি বা সিরিয়াল বারে চিনি ও পরিশোধিত শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। তাই কেনার আগে পুষ্টিগুণের তথ্য দেখে নেওয়া উচিত।

তাহলে সকালের নাশতায় কী খাবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলে সকালের নাশতায় ওটস বা অন্যান্য পূর্ণ শস্যের খাবার, সেদ্ধ ডিম, চিনি ছাড়া টক দই, পনির বা ডাল, বাদাম, আখরোট, চিয়া বা ফ্ল্যাক্স সিড, পেয়ারা, পেঁপে বা কম গ্লাইসেমিক সূচকের ফল এবং পর্যাপ্ত পানি বা চিনি ছাড়া হারবাল চায়ের মতো খাবারগুলো রাখা যেতে পারে।


শুধু খাবার নয়, নিয়মিত নাশতাও জরুরি

ডায়াবেটিসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা সকালের নাশতা বাদ দিলে অনেকের রক্তে শর্করার ওঠানামা হতে পারে। তাই নিয়মিত সময়মতো সুষম নাশতা খাওয়া এবং চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খালি পেটে চিনিযুক্ত পানীয়, ময়দার খাবার, ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে। দিনের শুরুতে সুষম ও পুষ্টিকর নাশতা শরীরকে শক্তি দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতেও সাহায্য করে।

সূত্র: এনডিটিভি