কোলেস্টেরল বেড়েছে বুঝবেন কীভাবে, নীরবে দেখা দেয় যেসব উপসর্গ

উচ্চ কোলেস্টেরলকে অনেক চিকিৎসক ‘নীরব ঘাতক’ বলেন। কারণ শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেলেও অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না।
বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো বড় সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই এটি ধীরে ধীরে রক্তনালিতে ক্ষতি করতে থাকে। আর অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন তখনই, যখন হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়।
বর্তমানে শুধু বয়স্কদের নয়, তরুণদের মধ্যেও উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ২০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রায় ১১.৩ শতাংশ মানুষের উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০ বা ৩০ বছর বয়স থেকেই শরীরে কোলেস্টেরল জমা শুরু হতে পারে।
চোখেই মিলতে পারে ইঙ্গিত
উচ্চ কোলেস্টেরলের একটি অদ্ভুত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেখা যেতে পারে চোখে। চোখের মণির চারপাশে ধূসর বা সাদা রঙের রিংয়ের মতো দাগ দেখা গেলে সেটিকে বলা হয় ‘কর্নিয়াল আর্কাস’। বিশেষ করে কম বয়সে এমন দাগ দেখা গেলে তা উচ্চ কোলেস্টেরলের ইঙ্গিত হতে পারে।
ত্বকের নিচে হলদে ফোলা দাগ
ত্বকের নিচে ছোট ছোট হলদে চর্বিযুক্ত ফোলা দাগ বা গুটি দেখা যেতে পারে, যাকে বলা হয় ‘জ্যানথোমা’। এগুলো সাধারণত চোখের চারপাশ, কনুই, হাঁটু বা পায়ের গোড়ালিতে দেখা যায়। অনেকেই এগুলোকে সাধারণ চামড়ার সমস্যা মনে করে গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এটি শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমার লক্ষণ হতে পারে।
তরুণদের কেন ঝুঁকি বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাপন তরুণদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অতিরিক্ত ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপন বড় কারণ। এছাড়া স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
হার্টের সমস্যার আগাম সংকেত
উচ্চ কোলেস্টেরল দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ধীরে ধীরে হার্টের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। তখন কিছু সূক্ষ্ম উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন-
- অস্বাভাবিক ক্লান্তি
- হালকা শ্বাসকষ্ট
- বুকে চাপ বা অস্বস্তি
- দ্রুত হাঁটলে হাঁপিয়ে যাওয়া
এগুলোকে অনেকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এগুলো হার্টে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।
নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায়
উচ্চ কোলেস্টেরল আছে কি না, তা জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো ‘লিপিড প্রোফাইল’ রক্ত পরীক্ষা। এতে মোট কোলেস্টেরল, এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল), এইচডিএল (ভালো কোলেস্টেরল) এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা জানা যায়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ২০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি ৪ থেকে ৬ বছর অন্তর কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা উচিত। আর পরিবারে ইতিহাস থাকলে বা ঝুঁকির কারণ থাকলে আরও নিয়মিত পরীক্ষা প্রয়োজন।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে যা করবেন
- বেশি করে শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার খান
- ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন
- ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
- পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
উচ্চ কোলেস্টেরল অনেক সময় নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। তাই কোনো উপসর্গ না থাকলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতন জীবনযাপনই হতে পারে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
.png)





