Advertisement

কেন খাবার চিবিয়ে খাওয়া এত গুরুত্বপূর্ণ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কেন খাবার চিবিয়ে খাওয়া এত গুরুত্বপূর্ণ
ছবি : সংগৃহীত

খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে হজম ভালো হয়, এটা আমরা অনেকেই জানি। তবে গবেষণা বলছে, বেশি চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস শুধু হজমেই নয়, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতেও সাহায্য করতে পারে। এমনকি এটি আলঝেইমারসের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

একসময় আমেরিকান পুষ্টিবিদ হোরেস ফ্লেচার প্রতিটি খাবার শত শত বার চিবিয়ে খাওয়ার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, খাবার এতক্ষণ চিবানো উচিত যতক্ষণ না তা প্রায় তরলে পরিণত হয়। যদিও তার এই অভ্যাসকে অনেকে অতিরঞ্জিত মনে করতেন। তবে আধুনিক গবেষকরা বলছেন, বিষয়টির মধ্যে কিছু সত্যতা ছিল।

সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ম্যাটস ট্রুলসনের মতে, বেশি চিবিয়ে খাওয়ার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি শুধু হজম ভালো করে না, বরং মানসিক চাপ কমাতে, মনোযোগ বাড়াতে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতেও সাহায্য করে।

কেন চিবানো এত গুরুত্বপূর্ণ?

চিবানো হলো হজম প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। খাবার ছোট ছোট অংশে ভেঙে যায় এবং লালার সঙ্গে মিশে সহজে গিলতে সুবিধা হয়। লালায় থাকা এনজাইম খাবার ভাঙতে সাহায্য করে এবং পাকস্থলীকে খাবার হজমের জন্য প্রস্তুত করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোভাবে চিবানো না হলে খাবারের বড় অংশ অন্ত্রে দীর্ঘ সময় থেকে যেতে পারে। এতে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বেশি চিবালে কি ওজনও কমে?

গবেষণায় দেখা গেছে, ধীরে ধীরে এবং বেশি চিবিয়ে খেলে মানুষ কম খাবার খায়। কারণ মস্তিষ্কে পেট ভরে যাওয়ার সংকেত পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। ধীরে খেলে শরীর সেই সংকেত পাঠানোর সময় পায়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খাবার ৪০ বার চিবিয়েছেন তারা কম ক্ষুধা অনুভব করেছেন। তাদের শরীরে এমন কিছু হরমোনের মাত্রাও বেড়েছে, যা পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করে।

মস্তিষ্কের সঙ্গে কী সম্পর্ক?

গবেষকরা এখন ‘বাইট-ব্রেইন অ্যাক্সিস’ নিয়ে কাজ করছেন। অর্থাৎ, চিবানোর ক্ষমতা ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের দাঁত ভালো এবং চিবানোর ক্ষমতা বেশি, তাদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ তুলনামূলক ভালো থাকে। দাঁত হারানো বা চিবানোর সমস্যার সঙ্গে আলঝেইমারস ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চিবানোর সময় মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। এটি মস্তিষ্ককে সক্রিয় ও সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে।

মানসিক চাপ কমাতেও সহায়ক

চুইংগাম চিবানো নিয়ে হওয়া কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। পরীক্ষার আগে নিয়মিত গাম চিবানো শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপ কম ছিল বলেও একটি গবেষণায় দেখা গেছে।

তবে গবেষকরা বলছেন, এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।

কতবার চিবানো উচিত?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। খাবার এমনভাবে চিবাতে হবে যেন তা সহজে গেলা যায় এবং খেতে স্বস্তি লাগে। খুব বেশি বা খুব কম নয়, স্বাভাবিকভাবে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।

স্বাস্থ্যকর খাবার, ধীরে খাওয়া এবং ভালোভাবে চিবানোর মতো ছোট ছোট অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মস্তিষ্ক দুটোকেই ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্র: বিবিসি