নারীরা কি কোরবানির পশু জবাই করতে পারবেন

আমীনুর রহমান নড়াইলী
নারীরা কি কোরবানির পশু জবাই করতে পারবেন
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহায় অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন জাগে—নারীরা কি কোরবানির পশু জবাই করতে পারবেন? কেউ মনে করেন, এটি শুধু পুরুষের কাজ; আবার কেউ বলেন, নারীদের জবাই করা ঠিক নয়।

ইসলামি বিধান মতে, শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম নারী সঠিকভাবে পশু জবাই করতে পারলে তার জবাই সম্পূর্ণ বৈধ। নারী হওয়ার কারণে জবাই অবৈধ হয়ে যায় না। ইসলামে জবাইয়ের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো, জবাইকারী মুসলিম বা আহলে কিতাব হওয়া, আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা এবং শরিয়তসম্মত নিয়মে পশু জবাই করা।

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগেও নারীরা পশু জবাই করেছেন এবং তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আছে, এক দাসী পাথরের সাহায্যে একটি পশু জবাই করেন। পরে বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানানো হলে তিনি সেই পশুর গোশত খাওয়ার অনুমতি দেন। এ হাদিস থেকেই ইসলামি বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন, নারীর জবাই বৈধ। নারীদের জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়া যাবে।

ইসলামে নারীর জন্য শালীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। যদি জবাইয়ের পরিবেশ অনিরাপদ হয় বা সেখানে অশোভন পরিস্থিতির শঙ্কা থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কিন্তু শুধু সামাজিক কুসংস্কার বা প্রচলিত ধারণার কারণে নারীদের এ কাজ থেকে বিরত রাখা শরিয়তের দৃষ্টিতে সঠিক নয়।

আমাদের সমাজে অনেক নারী গ্রামে হাঁস-মুরগি বা অন্যান্য পশু জবাই করে থাকেন। অথচ কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে অযথা দ্বিধা তৈরি করা হয়। ইসলাম নারীকে অক্ষম বা অযোগ্য মনে করে না; বরং যোগ্যতা ও শরিয়তের সীমারেখাকেই গুরুত্ব দেয়।

কোরবানি শুধু জবাইয়ের নাম নয়; এটি তাকওয়া, ত্যাগ ও আল্লাহর আনুগত্যের প্রতীক। তাই নারী হোক বা পুরুষ—যিনি কোরবানি করবেন, তার উচিত এ ইবাদতের মর্যাদা রক্ষা করা এবং শরিয়তের নিয়ম মেনে কাজ করা।