হাত ও আঙুলে রক্ত চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে যে ৭ ব্যায়াম

সারাদিন মোবাইল ব্যবহার, কম্পিউটারে টাইপ করা, রান্নাবান্না কিংবা ঘরের নানা কাজের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে হাতের ওপর। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ একইভাবে কাজ করার কারণে হাত ও আঙুলে ঝিনঝিন ভাব, অবশ অনুভূতি বা শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে শীতের সময় বা দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না করলে রক্ত চলাচল কিছুটা কমে যেতে পারে।
হাত ও আঙুলে ঠিকভাবে রক্ত চলাচল হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রক্তের মাধ্যমে শরীরের এই অংশগুলোতে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে যায়, যা হাতকে সচল, নমনীয় ও শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।
ভালো খবর হলো, খুব সহজ কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে হাত ও আঙুলে রক্ত চলাচল বাড়ানো সম্ভব। এসব ব্যায়াম করতে আলাদা কোনো যন্ত্রপাতিও লাগে না। বাড়িতে, অফিসে কিংবা কাজের ফাঁকে অল্প সময়েই এগুলো করা যায়।
নিয়মিত অভ্যাস করলে হাতের জড়তা কমে এবং স্বাভাবিক নড়াচড়া সহজ হয়।
ফিঙ্গার স্ট্রেচ
এটি সবচেয়ে সহজ ব্যায়ামগুলোর একটি। প্রথমে হাতটি টেবিলের ওপর সমানভাবে রাখুন অথবা সামনে সোজা করে ধরুন। এরপর ধীরে ধীরে আঙুলগুলো যতটা সম্ভব সোজা করুন। তবে অতিরিক্ত চাপ দেবেন না।
১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড এভাবে ধরে রাখুন, তারপর হাত স্বাভাবিক অবস্থায় আনুন।
এই ব্যায়াম আঙুল ও হাতের পেশিতে রক্ত চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে। যারা দীর্ঘ সময় টাইপ করেন বা মোবাইল ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী।
মুঠো বানানোর ব্যায়াম
প্রথমে হাত পুরোপুরি খুলে রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে আঙুল ভাঁজ করে নরমভাবে মুঠো বানান। বৃদ্ধাঙ্গুলটি অন্য আঙুলের বাইরে রাখুন।
কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে আবার হাত পুরোপুরি খুলে ফেলুন। এই ব্যায়াম হাতের ছোট ছোট রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হাতের জোড়াগুলোও সচল থাকে।
ফিঙ্গার ট্যাপ
এই ব্যায়াম যেকোনো জায়গায় বসেই করা যায়। হাত সামনে ধরে বা টেবিলের ওপর রেখে একে একে প্রতিটি আঙুলের মাথা বৃদ্ধাঙ্গুলের সঙ্গে স্পর্শ করুন।
এতে আঙুল দিয়ে গোল আকৃতি তৈরি হবে।
এই সহজ নড়াচড়া আঙুলের জোড়াগুলো সচল রাখে এবং রক্ত চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হাতের সমন্বয় ক্ষমতাও ভালো হয়।
কবজি ঘোরানো
হাতে রক্ত চলাচলের ক্ষেত্রে কবজির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কবজির ব্যায়ামও দরকার।
দুই হাত সামনে সোজা করে ধীরে ধীরে কবজি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরান। ১০ সেকেন্ড পর বিপরীত দিকে ঘোরান।
এটি কবজির শক্তভাব কমায় এবং হাতের রক্ত চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে। যারা একই ধরনের হাতের কাজ বারবার করেন, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
আঙুল ছড়িয়ে দেওয়া
প্রথমে সব আঙুল একসঙ্গে রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে যতটা সম্ভব আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিন।
কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন। এই ব্যায়াম আঙুলের মাঝের পেশিগুলো সক্রিয় করে এবং হাতের জড়তা কমাতে সাহায্য করে।
নরম বল চেপে ধরা
একটি নরম স্ট্রেস বল বা ফোম বল হাতে নিন। এরপর ধীরে ধীরে চাপ দিন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ছেড়ে দিন। প্রতিটি হাতে ১০ থেকে ১৫ বার করতে পারেন।
এটি হাত ও বাহুর পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রক্ত চলাচলও বাড়ায়। নিয়মিত করলে হাতের গ্রিপ শক্তিও বাড়তে পারে।
বৃদ্ধাঙ্গুলের স্ট্রেচ ও ঘোরানো
দিনের প্রায় সব কাজেই বৃদ্ধাঙ্গুল ব্যবহার হয়। তাই এটি সচল রাখা জরুরি।
বৃদ্ধাঙ্গুল ধীরে ধীরে হাতের তালুর ওপর দিয়ে কনিষ্ঠ আঙুলের গোড়ার দিকে নেওয়ার চেষ্টা করুন। তারপর আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন।
এছাড়া ছোট ছোট বৃত্তাকারে বৃদ্ধাঙ্গুল ঘোরানোও যেতে পারে।
এই ব্যায়াম বৃদ্ধাঙ্গুল ও হাতের আশপাশের অংশে রক্ত চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে। মোবাইল ব্যবহার বা জিনিস শক্ত করে ধরার কারণে যে জড়তা তৈরি হয়, তা কমাতেও এটি কার্যকর।
নিয়মিত কয়েক মিনিট সময় নিয়ে এসব সহজ ব্যায়াম করলে হাত ও আঙুল অনেক বেশি স্বস্তি পেতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ডেস্কে কাজ করেন বা হাতে বেশি চাপ পড়ে এমন কাজ করেন, তাদের জন্য এগুলো ভালো অভ্যাস হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
.png)







