খাওয়ার পরেই গড়াগড়ি, অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ

সকালে নাশতা, দুপুরে বা রাতে খাবার খাওয়ার পরই কেউ চেয়ারে বসে পড়েন, কেউ বিছানায় শুয়ে গড়াগড়ি করেন। খাওয়ার পর এসব অভ্যাসকে বিশ্রাম মনে হলেও আদৌ তা বিশ্রাম নয়। বরং শরীরের ক্ষতি করে থাকে। এতে বিভিন্ন রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আপনি দেরিতে রাতের খাবার খেয়েই ঘুমাতে যান বা হালকা কিছু খেতে খেতে টিভি দেখার জন্য হেলান দিন, উভয় ক্ষেত্রেই আপনি শরীরের জন্য খাবার হজম করা আরও কঠিন করে তুলতে পারেন।
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম এভরি ডে হেলথ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুয়ে পড়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খাবার খাওয়া উচিত। তা না হলে বুকজ্বালা, ঢেঁকুর বা মুখে বাজে স্বাদের মতো অস্বস্তিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাই সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অভ্যাসটি বাদ দেওয়া জরুরি।
খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়লে কী হয়
খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়লে হজম না হওয়া খাবার পরিপাকতন্ত্র পুরোপুরি সঠিকভাবে অতিক্রম করতে পারে না।
বেভারলি হিলসের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ইনস্টিটিউটের ডাবল বোর্ড-প্রত্যায়িত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. পেটন বেরুকিম বলেছেন, একটি সম্ভাবনা থাকে যে আপনি এই মাত্র খাবার খেয়েছেন, যা খাদ্যনালি বেয়ে পাকস্থলীর প্রবেশদ্বার পর্যন্ত পৌঁছেছে, সেসব উল্টো পথে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে সেসব পাকস্থলীর কিছু অ্যাসিডসহ পুনরায় গলায় চলে আসতে পারে।
এ সমস্যাকে বলা হয় ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স। যখন এমনটা হয়, তখন বুকে ও গলায় একধরনের অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে, যা অনেকটা গরম হুল ফোটানোর মতো তীব্র মনে হয়। এ কারণেই একে ‘হার্টবার্ন’ বা বুকজ্বালা বলা হয়।
তিনি বলেন, ‘এটি আপনার বুক ও গলায় জ্বালাপোড়ার অনুভূতি, মুখে টক স্বাদ বা কিছুক্ষণ পরপর ঢেঁকুর তোলার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে। এ কারণে কাশিও হতে পারে, যা একদম হাঁপানি বা অ্যাজমার লক্ষণের মতো মনে হয়ে থাকে।’
তবে খাওয়ার কতক্ষণ পর শুয়ে পড়ছেন তা বিবেচনা না করেও অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু খাবার বা ক্রিয়াকলাপের জন্য অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হতে পারে।

খাওয়ার পর শুয়ে পড়লে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা
এ কারণে যখন অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক রূপ নেয়, তখন একে বলা হয় গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি)। এ রোগের অন্যান্য লক্ষণগুলো হচ্ছে―খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া, বুকে বা পেটে ব্যথা এবং গলায় কোনো পিণ্ড বা চাকা আটকে থাকার মতো অনুভব হওয়া।
যদি নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা এই বুকজ্বালা অনুভব হয়, তাহলে এসব নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া না হলে খাদ্যনালিতে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অস্বস্তি এড়ানোর উপায়
বেরুকিম বলেন, ‘সাধারণত খাবার হজমে শরীরকে সাহায্য করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো খাওয়ার পর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করা, তারপর হেলান দেওয়া বা শোয়া। যাদের আগে থেকেই জিইআরডি বা হায়াটাল হার্নিয়া আছে, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য।’
তিনি বলেন, ‘এমন কোনো পরিস্থিতি বা অবস্থা নেই, যেখানে আমরা খাওয়ার পর হেলান দেওয়ার পরামর্শ দিই। এটি কেবল মাধ্যাকর্ষণের স্বাভাবিক দিকের বিরুদ্ধে কাজ করে, যা স্বাস্থ্যকর হজমে সহায়তা করে।’
তবে এতক্ষণ অপেক্ষা করা সব সময় সম্ভব হয় না এবং এটি নিজে থেকে অস্বস্তি বা অন্যান্য উপসর্গ দূর না-ও করতে পারে বলে জানান তিনি।
.png)






