মাত্র ২৪ ঘণ্টা চিনি ও ময়দা বাদ দিলে শরীরে যেসব পরিবর্তন শুরু হতে পারে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মাত্র ২৪ ঘণ্টা চিনি ও ময়দা বাদ দিলে শরীরে যেসব পরিবর্তন শুরু হতে পারে
ছবি : সংগৃহীত

আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় চিনি ও পরিশোধিত ময়দার ব্যবহার বেশ সাধারণ। সকালের বিস্কুট, বিকেলের কেক, সফট ড্রিংকস, পেস্ট্রি, সাদা পাউরুটি কিংবা নানা ধরনের ফাস্ট ফুডে এই দুই উপাদান থাকে প্রচুর পরিমাণে। কিন্তু মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য যদি এগুলো এড়িয়ে চলা যায়, তাহলে কি আসলেও শরীরে কোনো পরিবর্তন আসে?

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র এক দিনে শরীরে নাটকীয় পরিবর্তন না এলেও কিছু ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে শুরু করতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত বেশি চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খান, তারা তুলনামূলকভাবে দ্রুত কিছু পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন।

রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা কমতে পারে

চিনি ও পরিশোধিত ময়দা দ্রুত হজম হয় এবং অল্প সময়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এরপর আবার দ্রুত তা নেমে আসে। এই ওঠানামার কারণে অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষুধা অনুভব করেন বা ক্লান্ত লাগতে পারে।

এক দিন এসব খাবার এড়িয়ে চললে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। এর ফলে সারা দিন শক্তির মাত্রাও কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে পারে।

মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা কিছুটা কমতে পারে

চিনি খাওয়ার অভ্যাস অনেক সময় একটি চক্রের মতো কাজ করে। যত বেশি মিষ্টি খাওয়া হয়, ততই আবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করে।

মাত্র ২৪ ঘণ্টা চিনি বাদ দিলে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি বা খাওয়ার ইচ্ছা হতে পারে। তবে অনেকেই জানান, একদিন পর থেকেই মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ কিছুটা কমে আসে। যদিও এই পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে এক রকম নাও হতে পারে।

পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি কমতে পারে

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি পানীয় ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট অনেকের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা বা ভারী লাগার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

এক দিন এসব খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম এবং পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করলে হজম কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। ফলে পেটও তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক লাগতে পারে।

মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কিছুটা বাড়তে পারে

রক্তে শর্করার মাত্রা বারবার ওঠানামা করলে অনেকের মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হয়। কেউ কেউ ঝিমুনি বা অলসতাও অনুভব করেন।

চিনি ও ময়দার পরিবর্তে আঁশসমৃদ্ধ খাবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি খেলে শরীরে শক্তি ধীরে ধীরে সরবরাহ হয়। এতে দিনের বিভিন্ন সময়ে ক্লান্তি কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে এবং কাজে মনোযোগ বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার সূচনা হতে পারে

এক দিনের জন্য চিনি ও ময়দা বাদ দেওয়া হয়তো খুব বড় পরিবর্তন নয়। তবে এটি নিজের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হওয়ার একটি ভালো শুরু হতে পারে।

অনেকেই এই সময় বুঝতে পারেন যে তারা অজান্তেই কত বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে ফেলেন। এরপর ধীরে ধীরে ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, মাছ, ডিম ও বাদামের মতো পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ বাড়ানো সহজ হয়।

চিনি ও ময়দার পরিবর্তে কী খেতে পারেন?

চিনি ও পরিশোধিত ময়দা বাদ দিতে চাইলে খাবারের বিকল্পও জানা জরুরি। যেমন-

  • সকালের নাশতায় সাদা পাউরুটির বদলে ওটস বা লাল আটার রুটি
  • মিষ্টি বিস্কুটের বদলে ফল বা একমুঠো বাদাম
  • সফট ড্রিংকের বদলে লেবু পানি বা সাধারণ পানি
  • কেক বা পেস্ট্রির বদলে টক দই ও তাজা ফল
  • পরিশোধিত ময়দার তৈরি খাবারের বদলে পূর্ণ শস্যজাত খাবার
  • তবে কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি

মাত্র ২৪ ঘণ্টা চিনি ও ময়দা না খেলেই ওজন কমে যাবে বা শরীর পুরোপুরি বদলে যাবে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। দীর্ঘমেয়াদি উপকার পেতে হলে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ছোট ছোট পরিবর্তনই অনেক সময় বড় পার্থক্য তৈরি করে। তাই একদিনের এই চর্চাকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের জন্য ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া