Advertisement

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাচ্ছেন, পড়তে পারেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাচ্ছেন, পড়তে পারেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে
ছবি : সংগৃহীত

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়ার প্রবণতা এখন নীরব এক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। অনেক সময় আমরা ক্ষুধার চেয়ে পরিবেশিত খাবারের পরিমাণ বা সামনে থাকা বিকল্পের প্রভাবে বেশি খেয়ে ফেলি, যার প্রভাব ধীরে ধীরে শরীরের ওপর পড়তে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত খাওয়ার সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।

বিশেষ করে গত কয়েক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাবারের পরিমাণ বাড়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। রেস্তোরাঁগুলোর প্রতিযোগিতা, কম দামে বেশি খাবার দেওয়ার কৌশল এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের জনপ্রিয়তা এর অন্যতম কারণ। মানুষও অনেক সময় বেশি খাবারকে ‘ভালো অফার’ হিসেবে দেখে, ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি পরিমাণে খাবার সামনে থাকলে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বেশি খেয়ে ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পরিমাণ দ্বিগুণ হলে মানুষ গড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি খায়। কারণ অনেক সময় আমাদের শরীরের ক্ষুধা ও তৃপ্তির অনুভূতি স্পষ্টভাবে কাজ করে না। তখন আমরা চোখের সামনে থাকা খাবারের পরিমাণকে নির্দেশনা হিসেবে ধরি।

অনেকে মনে করেন, ছোট প্লেট ব্যবহার করলে কম খাওয়া যায়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু প্লেট ছোট হলেই খুব বেশি লাভ হয় না। মূল বিষয় হলো অতিরিক্ত খাবার সহজে হাতের কাছে আছে কি না। যদি পাশে আরও খাবার থাকে, তাহলে মানুষ আবারও খাবার তুলে খেতে পারে।

এ কারণে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই প্লেটে নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত খাবার সামনে না রেখে দূরে সরিয়ে রাখলে দ্বিতীয়বার খাবার নেওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সবচেয়ে জরুরি হলো সচেতনভাবে খাওয়া। খাওয়ার সময় নিজের ক্ষুধা ও তৃপ্তির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেকেই না বুঝেই অভ্যাসবশত খেতে থাকেন। কিন্তু ধীরে ধীরে খেলে এবং খাবারের দিকে মনোযোগ দিলে শরীর কখন তৃপ্ত হয়েছে, তা সহজে বোঝা যায়।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে লেবেল দেখে খাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় একটি প্যাকেট কয়েকজনের জন্য হলেও একজন মানুষ পুরোটা খেয়ে ফেলেন। ফলে অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে ঢুকে যায়।

তবে প্রাকৃতিক খাবার যেমন ফলমূল, শাকসবজি বা আঁশসমৃদ্ধ খাবারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। এগুলো শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও চিনিযুক্ত খাবার বেশি খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

খাবার নিয়ন্ত্রণ মানে নিজেকে না খাইয়ে রাখা নয়। বরং কখন, কী এবং কতটুকু খাচ্ছেন - সেই বিষয়ে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট কিছু অভ্যাস বদলালেই অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সূত্র:বিবিসি বাংলা