হাতের সব আঙুল সমান লম্বা নয় কেন, কী বলছে বিজ্ঞান

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
হাতের সব আঙুল সমান লম্বা নয় কেন, কী বলছে বিজ্ঞান
হাতের দিকে তাকালে আঙুলগুলোর অসমান দৈর্ঘ্য যতটা সাধারণ মনে হয়, এর পেছনের বিজ্ঞান ততটাই বিস্ময়কর। ছবি : সংগৃহীত

নিজের হাতের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন। সবচেয়ে লম্বা সাধারণত মধ্যমা। তর্জনী ও অনামিকা কাছাকাছি দৈর্ঘ্যের হলেও এক নয়। আর সবচেয়ে ছোট থাকে কনিষ্ঠা। কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন, সব আঙুল যদি সমান লম্বা হতো, তাহলে কি কোনো সমস্যা হতো?

বিজ্ঞানীদের মতে, হাতের প্রতিটি আঙুলের আলাদা দৈর্ঘ্য কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। বরং কোটি কোটি বছরের বিবর্তন, শরীরের বিকাশ এবং প্রতিদিনের নানা কাজের প্রয়োজন মিলেই মানুষের হাত আজকের এই গঠন পেয়েছে।

প্রতিটি আঙুলের কাজ আলাদা

মানুষের হাত এমনভাবে গঠিত, যাতে একই সঙ্গে শক্তভাবে কোনো বস্তু ধরা এবং খুব সূক্ষ্ম কাজ করা সম্ভব হয়।

তর্জনী দিয়ে আমরা ইশারা করি, ছোট জিনিস তুলে নিই বা লেখালেখির মতো নিখুঁত কাজ করি। মধ্যমা তুলনামূলক বেশি শক্তি প্রয়োগে সাহায্য করে। অনামিকা ও কনিষ্ঠা কোনো বস্তু শক্ত করে ধরার সময় হাতকে আরও স্থিতিশীল করে। আর বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রায় সব আঙুলের সঙ্গে মিলেই কাজ করতে পারে, যা মানুষের হাতকে অন্য অনেক প্রাণীর তুলনায় বেশি দক্ষ করে তুলেছে।

আঙুলের দৈর্ঘ্য কেন আলাদা?

গবেষকদের মতে, সব আঙুল সমান লম্বা হলে অনেক দৈনন্দিন কাজ কঠিন হয়ে যেত।

আঙুলের বর্তমান দৈর্ঘ্য এমনভাবে সাজানো যে কোনো বস্তু ধরার সময় এগুলো সহজেই একসঙ্গে কাজ করতে পারে। কলম ধরা, চামচ ব্যবহার, বোতামের ফিতা লাগানো, মোবাইল ধরা কিংবা দরজার হাতল ঘোরানোর মতো কাজে এই গঠন বিশেষ সুবিধা দেয়।

জন্মের আগেই শুরু হয় এই গঠন

একজন শিশুর হাতের গঠন মায়ের গর্ভেই তৈরি হতে শুরু করে।

বিশেষ কিছু জিন হাতের হাড়, জোড়া এবং আঙুল কতটা লম্বা হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া বিভিন্ন হরমোনও আঙুলের বৃদ্ধি ও অনুপাতের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই একই পরিবারের সদস্যদের হাতের গঠনে কিছু মিল থাকলেও প্রত্যেকের আঙুল পুরোপুরি এক রকম হয় না।

বিবর্তনেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের পূর্বপুরুষদের গাছে ওঠা, ডালপালা ধরে চলাফেরা, পরে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র তৈরি ও ব্যবহার করার প্রয়োজন ছিল। সময়ের সঙ্গে হাতের গঠন এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, যাতে শক্তি ও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হয়।

এই কারণেই মানুষের হাত দিয়ে যেমন ভারী কোনো বস্তু ধরা যায়, তেমনি একটি সূঁচে সুতা পরানোর মতো সূক্ষ্ম কাজও করা সম্ভব হয়।

হাতের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ

শুধু জন্মগত গঠনই নয়, হাতের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত ব্যবহারও ভূমিকা রাখে।

লেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, খেলাধুলা, রান্না বা বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ করতে করতে পেশি ও স্নায়ুর সমন্বয় আরও উন্নত হয়। ফলে একই হাত সময়ের সঙ্গে আরও দক্ষ হয়ে ওঠে।

সবার আঙুল কি একই অনুপাতে থাকে?

না। মানুষের আঙুলের দৈর্ঘ্য ও অনুপাত ব্যক্তি ভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কারও তর্জনী অনামিকার চেয়ে লম্বা, আবার কারও অনামিকা কিছুটা বড় হতে পারে। এই পার্থক্য সাধারণত স্বাভাবিক এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি কোনো রোগের লক্ষণ নয়।

ছোট একটি পার্থক্য, বড় একটি সুবিধা

হাতের আঙুলগুলোর দৈর্ঘ্য আলাদা হওয়ায় আমরা সহজে জিনিসপত্র ধরতে, লিখতে, রান্না করতে, বাদ্যযন্ত্র বাজাতে কিংবা মোবাইল ব্যবহার করতে পারি। অর্থাৎ প্রতিটি আঙুলের আলাদা আকার ও ভূমিকার সমন্বয়ই মানুষের হাতকে এত কার্যকর করে তুলেছে।

তাই হাতের দিকে তাকালে আঙুলগুলোর অসমান দৈর্ঘ্য যতটা সাধারণ মনে হয়, এর পেছনের বিজ্ঞান ততটাই বিস্ময়কর। কোটি বছরের বিবর্তন এবং শরীরের সূক্ষ্ম বিকাশের ফলেই মানুষের হাত আজ এত দক্ষ ও বহুমুখী একটি অঙ্গ।

সূত্র: দ্য কনভার্সেশন