ব্রাজিলকে বিদায় করে নরওয়ের ইতিহাস

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ব্রাজিলকে বিদায় করে নরওয়ের ইতিহাস
ছবি : সংগৃহীত

নরওয়ের বিপক্ষে এর আগে চার ম্যাচ খেলে কখনো জয় পায়নি ব্রাজিল। সেই অস্বস্তিকর ইতিহাস বদলাতে নেমেছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। তবে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর মধ্য দিয়ে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে নরওয়ে।

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বের এমন প্রতিপক্ষ খুব বেশি নেই, যাদের বিপক্ষে কখনো জয়ের স্বাদ পাওয়া হয়নি। কিন্তু নরওয়ে সেই বিরল ও ব্যতিক্রম দল। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে একক নৈপুণ্যে ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়ে তাদের ইতিহাস আরও দীর্ঘ করে দিলেন হালান্ড।

এদিকে এই ম্যাচ ঘিরে সেলেসাওদের লম্বা সময়ের ইউরোপীয় ভূত তাড়ানোর চ্যালেঞ্জ ছিল। সর্বশেষ পাঁচ আসরেই তাদের বিদায় করেছে ইউরোপের দেশগুলো। এবারও আনচেলত্তির অধীনে থাকা ব্রাজিল সেই গেরো থেকে বের হতে পারেনি। ষষ্ঠবারের মতো ইউরোপের দল নরওয়ের কাছে হেরে তা অব্যাহত রাখে।

নিউ জার্সিতে ম্যাচের শুরু থেকেই নরওয়ে নির্ভার হয়ে খেলছিল। ম্যাচের তিন মিনিটের মাথায় প্যাট্রিক বার্গ ব্রাজিলের জালে বল পাঠালেও, অফসাইডে বাতিল হয়। এতে সতর্কবার্তা পেয়ে যায় ব্রাজিল। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাজিল।

১১ মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। মাথিয়াস কুনিয়াকে বক্সে ফেলে দিলে প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বললেও পরে রিপ্লে দেখে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গিমারেস। স্পটকিক থেকে নেওয়া তার শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড।

এরপর থেকেই ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচ ছিল দোলাচলে। কখনো ব্রাজিল, কখনো নরওয়ে। আনচেলত্তি আক্রমণে নতুন গতি আনতে এন্ডরিককে নামান। প্রথম স্পর্শেই বড় সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণ ফরোয়ার্ড। ভিনিসিয়ুসের পাসে একা হয়ে গিয়েও নিয়ল্যান্ডকে হারাতে পারেননি। সেই সেভও পরে ম্যাচের বড় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

ব্রাজিল আক্রমণে গতি বাড়াতে এনদ্রিক ও পরে নেইমারকে নামায়। কিন্তু গোলের দেখা মেলেনি। উল্টো ৭৯ মিনিটে বাঁ দিক থেকে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে বক্সের মাঝখানে উঠে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন আরলিং হালান্ড।

পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্রাজিল। এনদ্রিকের একটি বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ক্রিস্টোফার আজের প্রায় আত্মঘাতী গোল করে বসেছিলেন। কিন্তু নিল্যান্ডের অসাধারণ সেভের পর বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কাসেমিরোও সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন।

ব্রাজিল যখন সমতায় ফিরতে মরিয়া, তখনই দ্বিতীয় আঘাত হানেন হালান্ড। ৯০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তার শক্তিশালী বাঁ পায়ের শট আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। দুই গোল করে নরওয়ের এই স্ট্রাইকার বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে যান সাতে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনিও আছেন এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির সঙ্গে।

যোগ করা সময়ে একটু আশার আলো দেখেছিল ব্রাজিল। কাসেমিরোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি পায় তারা। এবার আর ভুল করেননি নেইমার। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান করেন ২-১। কিন্তু এই গোল বিশ্বকাপ মঞ্চে হয়তো তার শেষ গোল হয়ে থাকল। ততক্ষণে ম্যাচ শেষের পথে।

শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় নরওয়ের উৎসব। ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নতুন ইতিহাস লিখেছে তারা। অন্যদিকে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল।