নাহিদের চোট নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন বাশার

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হওয়ার কথা ছিল নাহিদ রানার। কিন্তু সাইড স্ট্রেইনের চোটে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন গতিময় এই পেসার। তিন সংস্করণে তাকে খেলানো এবং ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল ছিল কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে। তবে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানালেন, নাহিদকে খেলানোর প্রতিটি সিদ্ধান্তই তথ্য ও চিকিৎসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বোলিংয়ের সময় বাঁ পাশের পেশিতে ব্যথা অনুভব করেন নাহিদ। পরে স্ক্যানে গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইন ধরা পড়ে। প্রাথমিক পুনর্বাসন শেষ করতেই তার প্রায় চার সপ্তাহ লাগবে। এরপর বোলিংয়ের চাপ বাড়াতে প্রয়োজন হবে আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টেই তাকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ।
নাহিদের মতো ফাস্ট বোলারের ওয়ার্কলোড কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাশার।
প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আমরা যখন কোনো খেলোয়াড় নির্বাচন করি, তখন মেডিকেল বিভাগ এবং যারা ওয়ার্কলোড নিয়ে কাজ করেন, তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন নিই। কে খেলার জন্য প্রস্তুত, কে প্রস্তুত নয়, সেটি জানার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি পেসারের কাজের চাপ পর্যবেক্ষণ করা হয় জানিয়ে বাশার বলেন, ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট এখন মুখের কথা নয়। জিপিএস ট্র্যাকার থাকে, তারা সবকিছু ট্র্যাক করে। কে কোন ম্যাচ খেলবে, কয়টি ম্যাচ খেলবে এবং কোন সিরিজে খেলতে পারবে, সবার ক্ষেত্রেই সেটি করা হয়। শুধু নাহিদ নয়, তাসকিনসহ আমাদের সব ফাস্ট বোলারের ক্ষেত্রেই এটি অনুসরণ করা হয়।’
নাহিদকে অতিরিক্ত বোলিং করানো হয়েছিল, এমন ধারণাও মানছেন না প্রধান নির্বাচক। তার দাবি, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে প্রয়োজনের তুলনায় কম ম্যাচই খেলানো হয়েছিল এই পেসারকে। চিকিৎসক ও ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপকদের প্রতিবেদনেও তাকে খেলার জন্য প্রস্তুত বলা হয়েছিল।
ফাস্ট বোলারদের প্রস্তুত রাখার ক্ষেত্রে শুধু বিশ্রামই সমাধান নয় বলে মনে করেন বাশার। দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটের আগে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বোলিং না করলেও চোটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বাশার বলেন, ‘ফাস্ট বোলারদের জন্য আমরা লাল, হলুদ ও সবুজ একটি অঞ্চল ধরে কাজ করি। বেশি বোলিং করে ওভারলোড হলে একজন বোলার লাল অঞ্চলে চলে যেতে পারে। আবার কম বোলিং করলেও সে লাল অঞ্চলে চলে যায়। টেস্ট খেলতে হলে পর্যাপ্ত ওভার করে সবুজ অঞ্চলে পৌঁছাতে হয়। তাই নাহিদকে কিছুটা খেলতেই হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন ফাস্ট বোলারকে বসিয়ে রাখলেই যে সে চোটমুক্ত থাকবে, বিষয়টি এমন নয়। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বল করেই তাকে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে হয়। বেশি বল করানো ঝুঁকির, আবার প্রয়োজনের চেয়ে কম বল করানোও ঝুঁকির। ঝুঁকি কমানো যায়, কিন্তু একজন ফাস্ট বোলার বল করবে এবং কখনোই চোট পাবে না, সেটি নিশ্চিত করা কঠিন।’
ওয়ার্কলোড পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দিলেও নাহিদের অনুপস্থিতিকে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন বাশার।
প্রধান নির্বাচকের ভাষায়, ‘নাহিদ রানা বিশেষ একজন বোলার। যেকোনো টেস্ট দলে সে একটি সেনসেশন। তাকে না পাওয়ার আক্ষেপ অবশ্যই থাকবে। নাহিদ না থাকা আমাদের জন্য অনেক বড় ধাক্কা। কিন্তু সেরা খেলোয়াড়কে না পেলে সেটি নিয়ে বসে থাকলে সামনে এগোনো যাবে না।’
নাহিদের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দায়িত্ব থাকবে তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন ও নতুন মুখ মুশফিক হাসানের ওপর।
তাদের ওপর আস্থা রেখে বাশার বলেন, ‘তাসকিন ফিট থাকলে দুর্দান্ত বোলার। হাসান মাহমুদ কী করতে পারে, সেটিও সবাই দেখেছেন। খালেদ খারাপ করেনি এবং এবাদত অতীতে ভালো করেছে। যারা আছে, তাদের নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
.png)

-451d52.webp)
-f73a51.webp)

-278631.jpg)

