Advertisement

সৌম্যকে টেস্ট দলে ফেরানোর কারণ জানালেন বাশার

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
সৌম্যকে টেস্ট দলে ফেরানোর কারণ জানালেন বাশার
সৌম্য সরকার ও হাবিবুল বাশার। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে সৌম্য সরকার। সবশেষ সাদা পোশাকে খেলেছিলেন ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুরে। দীর্ঘ বিরতির পর তাকে ফেরানো হলো আবার অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন সফরে। অন্যদিকে বাদ পড়েছেন গত দুই বছর ধরে নিয়মিত সুযোগ পাওয়া মাহমুদুল হাসান জয়।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দল ঘোষণার পর আজকের সংবাদ সম্মেলনে সৌম্যর প্রত্যাবর্তন ও জয়ের বাদ পড়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তার কথায় উঠে এসেছে টপ অর্ডারে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের আধিক্য, জয়ের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং অস্ট্রেলিয়ার গতিময় বোলিং সামলাতে সৌম্যর অভিজ্ঞতার বিষয়টি।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য টপ অর্ডারের অধিকাংশই বাঁহাতি। সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিমের পর আছেন মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সৌম্য নিজেও বাঁহাতি। এই সমন্বয়ে ডানহাতি ওপেনার হিসেবে জয়কে প্রয়োজন ছিল বলেই স্বীকার করেছেন বাশার।

তিনি বলেন, ‘আমাদের টপ অর্ডারে প্রায় পাঁচজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হয়ে যাচ্ছে। যদি তানজিদ তামিম ও সাদমান ওপেন করে, তাহলে পরপর চারজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থাকবে। এটি আদর্শ নয়। এই সমন্বয়ের জন্য জয় আমাদের অন্যতম ডানহাতি ওপেনার।’

তারপরও জয়কে বাদ দেওয়ার কারণ তার ব্যাটিংয়ের বর্তমান অবস্থা। প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘জয়ের পারফরম্যান্স এবং যেভাবে সে ব্যাটিং করছে, সেটি নিয়ে আমরা কিছুটা চিন্তিত। ওর ব্যাটিং কিছুটা নড়বড়ে দেখাচ্ছে। তবে সে এখনো আমাদের পরিকল্পনায় খুব ভালোভাবেই আছে, কারণ একজন ডানহাতি ওপেনার আমাদের দরকার।’

জয়কে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে গিয়ে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার পরিবর্তে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যাচ খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নির্বাচকেরা। সেখানে রান করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলে ভবিষ্যৎ সিরিজে আবারও টেস্ট দলে ফেরার সুযোগ পাবেন তিনি।

বাশারের ভাষায়, ‘জয় খুব ভালো ফর্মে নেই। অস্ট্রেলিয়ায় গেলে হয়তো তার খেলার সুযোগও কম থাকত। তাই আমরা মনে করেছি, তাকে ফিরে গিয়ে ম্যাচ খেলতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ খুব শক্তিশালী দল। সেখানে সে রান করে আবার ফিরে আসুক। শুধু এই সিরিজ নয়, সামনে আমাদের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ আছে।’

জয়ের জায়গায় সৌম্যকে নেওয়ার প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও স্কট বোল্যান্ডের মতো পেসারদের বিপক্ষে অনভিজ্ঞ কাউকে অভিষেক করানো ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছেন নির্বাচকেরা।

বাশার বলেন, ‘সৌম্য এমন একজন, যে অনেক দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছে। অস্ট্রেলিয়ায় যে ধরনের গতি আমরা প্রত্যাশা করছি, সে ধরনের বোলিং খেলার অভিজ্ঞতা তার আছে।’

ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করা অন্য ওপেনারদের নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে তাদের এখনই অস্ট্রেলিয়ার মতো সফরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত মনে করেনি নির্বাচক প্যানেল।

প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আমরা অন্য ওপেনারদের কথাও চিন্তা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই মুহূর্তে প্রস্তুত ডানহাতি ওপেনার খুব বেশি নেই। যাদের নিয়ে কাজ করছি, তারা একেবারেই নতুন। অস্ট্রেলিয়া সফর তাদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যেত।’

তরুণ ওপেনারদের এইচপি দল, বাংলাদেশ ‘এ’ দল এবং ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বাশার।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের নিয়ে কাজ করছি। এইচপি, ‘এ’ দল এবং সামনের সিরিজগুলোতে সুযোগ দেওয়া হবে। আশা করছি, এক বছরের মধ্যে ওপেনিংয়ে একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যান প্রস্তুত করতে পারব। এটি আমাদের খুব প্রয়োজন।’

আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। সেই ম্যাচের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে সৌম্য ছাড়াও ওপেনার হিসেবে আছেন সাদমান ও তানজিদ।