বিশ্বকাপে এখনও পিছিয়ে পড়েনি স্পেন-ফ্রান্স, সেমিতে থামবে কে

বিশ্বকাপের ছয়টি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে স্পেন ও ফ্রান্স। কিন্তু টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচের কোনো পর্যায়েই পিছিয়ে পড়েনি দুই দল। এবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ায় অন্তত একটি দলের সেই অপরাজেয় যাত্রা শেষ হতে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যানের হিসাবে লড়াইটি মূলত ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমণের সঙ্গে স্পেনের জমাট রক্ষণের। এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে ১৬ গোল করেছে ফ্রান্স, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র দুটি। নকআউট পর্বের তিন ম্যাচে এখনো কোনো গোল খায়নি দিদিয়ের দেশমের দল।
ফ্রান্সের ১৪ গোলের আটটিই করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোলের পাশাপাশি ফরাসিদের বড় শক্তি উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও দেজিরে দুয়েকে নিয়ে গড়া গতিময় আক্রমণভাগ। প্রতিপক্ষকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে দিলেও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে তারা।
অন্যদিকে স্পেনের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। পরের পাঁচ ম্যাচে দলটি করেছে ১১ গোল, হজম করেছে মাত্র একটি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলায়েরের গোলটিই এবারের আসরে স্পেনের জালে যাওয়া একমাত্র গোল। তখন অবশ্য ফাবিয়ান রুইসের গোলে এগিয়ে ছিল স্পেন।
নকআউট পর্বে ধৈর্য ধরে ফল বের করার ক্ষমতাও দেখিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেন মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও তার ৮৮তম মিনিটের গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয় পায় স্পেন।
বিশ্বকাপে এর আগে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোয় দাভিদ ভিয়ার পেনাল্টিতে এগিয়ে গিয়েও ফ্রান্সের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছিল স্পেন। ফ্রাঙ্ক রিবেরি, প্যাট্রিক ভিয়েরা ও জিনেদিন জিদান গোল করেছিলেন ফরাসিদের হয়ে।
তবে সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে স্পেন। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। এরপর ২০২৫ নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও ফ্রান্সের বিপক্ষে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পায় স্প্যানিশরা।
দুই দলের মোট ৩৮ সাক্ষাতে স্পেনের জয় ১৮টি এবং ফ্রান্সের ১৩টি। বাকি সাত ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। সফল হলে ব্রাজিল ও জার্মানির পর এই কীর্তি গড়া তৃতীয় দল হবে ফ্রান্স।
স্পেনের লক্ষ্য ২০১০ সালের পর প্রথম এবং ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেবার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে নিজেদের একমাত্র শিরোপাটি জিতেছিল তারা।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত একটায় ডালাস স্টেডিয়ামে শুরু হবে সেমিফাইনাল। এত দিন কোনো দলই পিছিয়ে পড়েনি। তবে এবার একজনকে থামতেই হবে।




