সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ায় মেসিকে অভিনন্দন জানালেন ক্লোসে

বিশ্বকাপের গোলরেকর্ড হারালেন, কিন্তু লিওনেল মেসিকে প্রশংসায় ভাসাতে ভুললেন না সাবেক জার্মান স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে মেসি পুরুষদের বিশ্বকাপে ক্লোসের রেকর্ড ভেঙেছেন। ম্যাচের পর আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে অভিনন্দন জানিয়েছেন জার্মান কিংবদন্তি। তার চোখে, মেসিই ফুটবল ইতিহাসের সেরা।
ডালাসে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের দুই গোলই করেছেন মেসি। প্রথম গোলটি আসে ৩৮ মিনিটে, যেটি তাকে ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা বানায়। যোগ করা সময়ে আরেক গোল করে নিজের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১৮-তে নিয়ে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেই গোলেই নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও এককভাবে শীর্ষে উঠে যান তিনি।
রেকর্ড ভাঙার পর মেসিকে অভিনন্দন জানিয়ে জার্মান সংবাদমাধ্যম জ্যুডডয়চে সাইটুংকে ক্লোসে বলেন, ‘আমার কাছে লিওনেল মেসি সর্বকালের সেরা। অভিনন্দন, চ্যাম্পিয়ন।’
২০১৪ সালে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপজয়ী ক্লোসে এতদিন পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। ২৪ ম্যাচে তাঁর গোল ছিল ১৬টি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে মেসি সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করে তাঁকে পেছনে ফেলেন, আর দ্বিতীয় গোল করে রেকর্ডটা আরও দূরে নিয়ে যান।
মেসির রেকর্ড ভাঙা নিয়ে ক্লোসের আপত্তি ছিল না আগেই। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, রেকর্ড একদিন না একদিন ভাঙবেই, আর সেটি যদি মেসি করেন, তাতে তার সমস্যা নেই। ক্লোসে তখন নিজেকে মেসির বড় ভক্ত বলেও উল্লেখ করেছিলেন। তার ভাষায়, মেসি একজন প্রতিভাবান ফুটবল-শিল্পী।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি মেসির জন্য নাটকীয়ও ছিল। নবম মিনিটে পেনাল্টি মিস করেন তিনি। ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলে তখনই ক্লোসেকে ছাড়িয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তাঁর বাঁ পায়ের শট বাইরে চলে যায়।
তবে সেই হতাশা বেশি সময় থাকেনি। ৩৮ মিনিটে ফাকুন্দো মেদিনার নিচু ক্রস থেকে প্রথম ছোঁয়ায় গোল করে ইতিহাস গড়েন মেসি। এরপর যোগ করা সময়ে আবারও গোল। জুলিয়ান আলভারেসের প্রথম প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগার। পরে বল আবার মেসির সামনে এলে কাছ থেকে শট নিয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি। ১৮ বিশ্বকাপ গোল নিয়ে এখন তিনি এককভাবে শীর্ষে।
চলতি বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে মেসির গোল ৫টি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল। আর্জেন্টিনার সব গোলই এখন পর্যন্ত এসেছে তাঁর পা থেকে। বয়স ৩৮, এই সপ্তাহেই ৩৯-এ পা দেবেন। তবু বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা এখনও তিনিই।
মেসির বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ২০০৬ সালে। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—ছয়টি বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ ছাড়া বাকি সব আসরেই গোল করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, এবার ২০২৬ সালে এসে বিশ্বকাপের গোলরেকর্ডও নিজের করে নিলেন।
পুরুষদের বিশ্বকাপের গোলদাতার তালিকায় এখন মেসি শীর্ষে ১৮ গোল নিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে ক্লোসে, ১৬ গোল। তৃতীয় স্থানে ব্রাজিলের রোনালদো, ১৫ গোল। এরপর জার্মানির গার্ড মুলার ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, দুজনেরই ১৪ গোল। এমবাপে এখনো সক্রিয় এবং বয়সের হিসাবেও সামনে তার বড় সুযোগ আছে। ভবিষ্যতে তিনিই মেসির রেকর্ডের সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারেন।
ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের গোল ১০টি, পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ৮টি। তবে মেসির বর্তমান ১৮ গোলের রেকর্ড তাদের থেকে অনেক দূরে। এই বিশ্বকাপে মেসি যে ছন্দে আছেন, রেকর্ড আরও বাড়ার সম্ভাবনাও থাকছে।







