কোলে নেওয়া সেই শিশু ইয়ামালই এখন মেসির শিরোপার বাধা

২০০৭ সালে ছবিটি তোলার সময় কেউ কল্পনাও করেননি, এর গল্প একদিন পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপ ফাইনালে। প্লাস্টিকের ছোট্ট টাবে কয়েক মাস বয়সী এক শিশুকে গোসল করাচ্ছেন ২০ বছরের লিওনেল মেসি। সেই শিশু এখন লামিন ইয়ামাল। প্রায় ১৯ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছেন দুজন।
আগামী রোববারের আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল তাই শুধু দুই দেশের শিরোপার লড়াই নয়, দুই প্রজন্মের দুই তারকারও দ্বৈরথ। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী মেসি খেলছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। অন্যদিকে সদ্য ১৯ বছরে পা দেওয়া ইয়ামালের এটি প্রথম বিশ্বকাপ।
আলোচিত ছবিটি তোলা হয়েছিল ২০০৭ সালে বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে। স্প্যানিশ সংবাদপত্র স্পোর্ত ও বার্সেলোনা ইউনিসেফের জন্য তহবিল সংগ্রহে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল। সেই প্রকল্পের ফটোশুটেই ইয়ামালের সঙ্গে মেসিকে জুটি করে দিয়েছিলেন আলোকচিত্রী হোয়ান মনফোর্ত।
তখন মেসি বার্সেলোনার উঠতি তারকা হলেও আর্জেন্টিনার হয়ে একটি বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন। অন্যদিকে ইয়ামালের বয়স মাত্র কয়েক মাস। ছবিতে মেসিকে শিশুটিকে কোলে নেওয়া এবং ছোট টাবে গোসল করাতে দেখা যায়।
দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে সেটি ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোতে ইয়ামালের উত্থানের সময় পুরোনো ছবিটি যেন ফুটবলের দুই প্রজন্মকে একই ফ্রেমে এনে দিয়েছিল।
দুজনের যোগসূত্র সেখানেই শেষ নয়। বার্সেলোনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৭২ গোল করা মেসি ক্লাবটির ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন ১৩ মৌসুম। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সেই জার্সির উত্তরাধিকার পান ইয়ামাল।
চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে ১৯ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন ইয়ামাল। ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে একই নম্বরের জার্সি পরেছিলেন মেসি। তখনো জন্মই হয়নি ইয়ামালের।
এই বিশ্বকাপেও ইতিহাস গড়েছেন দুজন। সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাদের তালিকায় মেসিকে পেছনে ফেলেছেন ইয়ামাল। অন্যদিকে ২১ গোল নিয়ে ছেলেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। পুরোনো ছবিতে মেসির হাতের ওপর নিশ্চিন্তে শুয়ে থাকা সেই শিশু এবার তাঁর বিশ্বকাপ ধরে রাখার পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি।
.png)





