মদরিচের কর্নারে শেষ ৩২-এ ক্রোয়েশিয়া

ফিলেডেলফিয়ায় বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এর শেষ ম্যাচে ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে রানার্সআপ হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েশিয়া। হেরেও তৃতীয় দল হিসেবে নকআউটে জায়গা পেয়েছে ঘানাও।
ক্রোয়েশিয়ার জয়ের বড় কারিগর আবারও লুকা মদরিচ। বয়স ৪০, কিন্তু মাঠে এখনো তিনিই দলের ছন্দ ও নিয়ন্ত্রণের বড় ভরসা। ৮৩ মিনিটে তার কর্নার থেকেই হেডে জয়সূচক গোল করেন নিকোলা ভ্লাসিচ। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় ক্রোয়েশিয়ার নকআউট যাত্রা।
ম্যাচের শুরুটা ছিল সতর্ক। দুই দলই খুব বেশি ঝুঁকি নিতে চাইছিল না। মাঝমাঠে বল ঘোরাঘুরি করছিল, আক্রমণে ধার ছিল কম। তবে ক্রোয়েশিয়া এমন দল, যারা দীর্ঘ সময় চুপচাপ থাকলেও সুযোগ পেলে আঘাত করতে জানে। ১৭ মিনিটে প্রথম সতর্কবার্তা দেয় তারা। প্রতি আক্রমণে আনতে বুদিমিরের মুভ থেকে ভ্লাসিচ নিচু শট নেন, বল লাগে পোস্টে।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ক্রোয়েশিয়া। মদরিচের পা দিয়ে প্রায় প্রতিটি আক্রমণ তৈরি হচ্ছিল। সেট পিস থেকেও বিপদ তৈরি করছিল জ্লাতকো দালিচের দল। মদরিচের ফ্রি-কিক থেকে পংগ্রাচিচের হেড বাইরে যায়। আরেকটি ফ্রি-কিক থেকে ইভান পেরিসিচের হেড জমা পড়ে ঘানা গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারের হাতে।
৩১ মিনিটে আসে ক্রোয়েশিয়ার প্রথম গোল। বক্সের বাইরে থেকে পেতার সুচিচের নিচু ও জোরালো শট ঘানার ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে জালে যায়। বলটি ডেরিক লুকাসেনের পায়ের মাঝ দিয়ে বেরিয়ে পোস্টের ভেতরের দিকে ঢুকে পড়ে। ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে যায় ১-০ গোলে।
প্রথমার্ধে ঘানা আক্রমণে খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। বিরতির আগে আন্তোয়ান সেমেনিওর একটি ক্রস-শট পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। সেটিই ছিল প্রথমার্ধে ঘানার সবচেয়ে ভালো সুযোগ।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বিরতির পর মাঠে নামা আবদুল ফাতাউ ঘানার আক্রমণে গতি আনেন। ডান দিক দিয়ে তার গতিময় ফুটবলে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণ চাপে পড়ে। প্রথমার্ধে যেখানে ঘানা অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিল, বিরতির পর তারা ক্রোয়েশিয়ার অর্ধে বেশি সময় কাটাতে শুরু করে।
৭৩ মিনিটে সমতায় ফেরে ঘানা। ফ্রি-কিক থেকে বল আসে দূরের পোস্টে। সেখান থেকে প্রথম স্পর্শেই গোল করেন লুকাসেন। সম্ভাব্য অফসাইড নিয়ে ভিএআর পরীক্ষা হয়। পরে রেফারি মনিটরে দেখে গোলের সিদ্ধান্ত দেন। অফসাইড অবস্থান খেলার ওপর প্রভাব ফেলেনি বলেই গোলটি বহাল থাকে।
সমতায় ফিরে ঘানা ম্যাচে নতুন প্রাণ পায়। তখন ক্রোয়েশিয়ার অবস্থানও কিছুটা চাপে পড়ে যায়। আরেকটি গোল হজম করলে তাদের হিসাব জটিল হতে পারত। কিন্তু বড় টুর্নামেন্টে ক্রোয়েশিয়ার পুরোনো শক্তি এখানেই। চাপের সময় তারা সহজে ভেঙে পড়ে না।
৮৩ মিনিটে আবারও মদরিচ। তার নিখুঁত কর্নার খুঁজে নেয় ভ্লাসিচকে। ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড হেডে বল জালে পাঠান। ঘানার সমতা ফেরানোর আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, ক্রোয়েশিয়া আবার এগিয়ে যায় ২-১ গোলে।
শেষ পর্যন্ত সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। ক্রোয়েশিয়া জয় নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২-এ উঠেছে। ঘানা হেরেছে, তবে তাদের বিশ্বকাপ শেষ হয়নি। তৃতীয় দল হিসেবে তারাও নকআউটে যাচ্ছে।
ক্রোয়েশিয়ার জন্য জয়টা দরকার ছিল। ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হেরে শুরু করেছিল তারা। এরপর পানামার বিপক্ষে কষ্টের ১-০ জয়। ঘানার বিপক্ষে ড্র করলেও চলতে পারত, কিন্তু নিরাপদ পথ ছিল জয়। মদরিচদের দল শেষ পর্যন্ত সেটিই করেছে।
মদরিচের জন্য ম্যাচটি ছিল তার অভিজ্ঞতার আরেকটি প্রমাণ। পুরো ম্যাচে তিনি শুধু বলের নিয়ন্ত্রণই দেননি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটিও তৈরি করেছেন। তার কর্নার থেকেই এসেছে সেই গোল, যা ক্রোয়েশিয়াকে অন্তত আরও একটি ম্যাচ বিশ্বকাপে রাখল।
তাই রাতটি ছিল দুই দলের জন্য দুই রকম স্বস্তির। ক্রোয়েশিয়া জিতেছে, ঘানাও টিকে আছে। মদরিচের হাসির পাশে ঘানার হতাশা পুরোপুরি অন্ধকার নয়। শেষ ৩২-এ দুদলের গল্পই চলবে।






