মায়ামিতে রোনালদোদের রুখে দিল কলম্বিয়া

স্কোরলাইন ০-০। কিন্তু মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের ম্যাচটি নিস্তেজ ছিল না। পর্তুগালের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেও গ্রুপ ‘কে’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। নেস্তর লরেনসোর দল শেষ ৩২-এ উঠেছে ৭ পয়েন্ট নিয়ে। পর্তুগাল ৫ পয়েন্টে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে উঠেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই কলম্বিয়ার খেলায় ছিল গতি ও আগ্রাসন। লুইস দিয়াসের দৌড়, জন কর্দোবার উপস্থিতি এবং জন আরিয়াসের ধারাবাহিক মুভমেন্ট পর্তুগালের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে। দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ, দ্রুত প্রেসিং এবং বক্সের আশপাশে উপস্থিতি মিলিয়ে প্রথমার্ধের বড় অংশে কলম্বিয়াই বেশি বিপজ্জনক মনে হয়েছে।
১৭ মিনিটে ভালো সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। আরিয়াসের মুভ থেকে কর্দোবা ও লুইস দিয়াসরা পর্তুগালের গোলমুখে চাপ তৈরি করেন। দিয়োগো কস্তা ও রুবেন দিয়াসের সতর্কতায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় পর্তুগাল।
পর্তুগালও সুযোগ পেয়েছে। ব্রুনো ফার্নান্দেসের একটি ভালো প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন কলম্বিয়া গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও কয়েকবার বিপজ্জনক জায়গায় বল পেয়েছিলেন। তবে পর্তুগালের আক্রমণে ধারাবাহিকতা কম ছিল। অল্প সময়ে বিপদ তৈরির সামর্থ্য থাকলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তারা দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারেনি।
কলম্বিয়ার শক্তি ছিল তাদের ভারসাম্য। হামেস রদ্রিগেজ মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ সাজিয়েছেন। আরিয়াস ডান প্রান্তে বারবার চাপ তৈরি করেছেন। লুইস দিয়াস গতি দিয়ে পর্তুগালের রক্ষণকে অস্বস্তিতে রেখেছেন। মাঝমাঠে গুস্তাভো পুয়ের্তা ও জেফারসন লেরমার উপস্থিতিও কলম্বিয়াকে লড়াইয়ে এগিয়ে রাখে।
প্রথমার্ধের মাঝপথে পানি পানের বিরতির পর পর্তুগাল কিছুটা গুছিয়ে ওঠে। বলের দখল বাড়ানোর চেষ্টা করে রবের্তো মার্তিনেজের দল। তবে কলম্বিয়ার প্রেসিং ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কারণে তারা পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ হতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের গতি কমেনি। পর্তুগাল বদলি নামিয়ে আক্রমণে নতুন শক্তি আনার চেষ্টা করে। রাফায়েল লেয়াও, জোয়াও নেভেস ও দিয়োগো দালোত মাঠে নামলেও ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি তারা। বরং কলম্বিয়াই কয়েকবার গোলের কাছাকাছি যায়।
শেষ মুহূর্তে প্রায় জিতেই যাচ্ছিল কলম্বিয়া। যোগ করা সময়ে হুয়ান ফের্নান্দো কিন্তেরোর ক্রস থেকে দাভিনসন সানচেজ হেডে বল জালে পাঠান। কলম্বিয়ার খেলোয়াড়রা উদযাপনও শুরু করেছিলেন। কিন্তু ভিএআর পরীক্ষার পর গোলটি বাতিল হয় সামান্য অফসাইডে। তাতেই স্কোরলাইন থাকে ০-০।
ড্র করেও কলম্বিয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপসেরা হয়েছে। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ ঘানা। অন্যদিকে পর্তুগাল দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে উঠেছে। রোনালদোদের সামনে এবার ক্রোয়েশিয়া।
কলম্বিয়ার জন্য ম্যাচটি ছিল আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো। গোল না পেলেও সুযোগ তৈরি, গতি, শারীরিকতা ও রক্ষণে স্থিরতা তাদের বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। তবে ফিনিশিং নিয়ে ভাবনা থাকবে। এত চাপ তৈরি করেও গোল না পাওয়া নকআউটে বিপজ্জনক হতে পারে।
পর্তুগালের জন্য এটি সতর্কবার্তা। দলে বড় নাম আছে, অভিজ্ঞতা আছে, রোনালদোর উপস্থিতি আছে। কিন্তু নকআউটে এগোতে হলে আক্রমণে আরও গতি, মাঝমাঠে আরও নিয়ন্ত্রণ এবং শেষ তৃতীয়াংশে আরও ধার দরকার হবে।
গোলহীন ড্র হলেও মায়ামির রাত ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কলম্বিয়া দেখিয়েছে, তারা শুধু গ্রুপসেরা হয়েই থামতে চায় না। আর পর্তুগালের জন্য বার্তাটা পরিষ্কার: ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ভুলের জায়গা খুব কম।





