ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন

বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী আক্রমণভাগ নিয়ে সেমিফাইনালে এসেছিল ফ্রান্স। কিন্তু ডালাসের রাতে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেদের নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গাটুকুও দিল না স্পেন। বলের নিয়ন্ত্রণ, একের পর এক চাপ এবং জমাট রক্ষণে ফরাসিদের ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
মঙ্গলবার টেক্সাসের আর্লিংটনে স্পেনের জয়ের দুই গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল ও পেদ্রো পোরো। প্রথমটি আসে পেনাল্টি থেকে, দ্বিতীয়টি দানি ওলমোর সঙ্গে পোরোর দারুণ বোঝাপড়ায়।
২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। এরপর এই প্রথম ফাইনালে উঠল তারা। শিরোপার ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী।
শুরু থেকেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইস বলের গতি ঠিক করার পাশাপাশি ফ্রান্সের পাল্টা আক্রমণের পথও বন্ধ করে দেন। সামনে ওলমো, লামিন ইয়ামাল ও অ্যালেক্স বায়েনাদের নড়াচড়ায় বারবার জায়গা হারাচ্ছিল ফরাসি রক্ষণ।
অষ্টম মিনিটে ওলমোকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন আদ্রিয়েন রাবিও। সেই ফ্রি-কিক থেকে অবশ্য বায়েনা ফরাসি দেয়াল পার করতে পারেননি। তবে স্পেনের চাপ কমেনি।
২০ মিনিটে আসে ম্যাচের প্রথম বড় মোড়। মার্ক কুকুরেয়ার উঁচু ক্রস ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি লুকাস দিনিয়ে। বল সরাতে গিয়ে তার পায়ের আঘাত লাগে দ্রুত এগিয়ে আসা ইয়ামালের গায়ে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ফরাসি ফুটবলাররা আপত্তি জানালেও ভিডিও সহকারী রেফারি সিদ্ধান্ত বদলাননি।
২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে শক্তিশালী শটে গোল করেন ওইয়ারসাবাল। মাইক মেনিয়ঁ সঠিক দিকে ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি। এবারের বিশ্বকাপে সাত ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স।
গোল হজমের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরেকটি বিপদ আসে দিদিয়ের দেশমের দলের সামনে। চোট নিয়ে ৩০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন উইলিয়াম সালিবা। তার জায়গায় নামেন ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া। কিছুক্ষণ পর ওলিসেকে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন কুকুরেয়া।
৩৮ মিনিটে মেনিয়ঁর ভুল পাস সরাসরি চলে যায় বায়েনার কাছে। কয়েকটি দ্রুত পাসের পর ফাবিয়ান কাছ থেকে শট নিলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে না দিয়েই বিরতিতে যায় স্পেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রাবিওর জায়গায় মানু কোনেকে নামান দেশম। ৫৭ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলাকে তুলে দেজিরে দুয়েকেও মাঠে পাঠান ফরাসি কোচ। কিন্তু পরিবর্তনের সুফল পাওয়ার আগেই দ্বিতীয় গোল হজম করে তাঁর দল।
৫৮ মিনিটে ওলমোর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে ফরাসি রক্ষণের মাঝ দিয়ে বেরিয়ে যান পোরো। বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথার শটে মেনিয়ঁকে হারিয়ে দেন স্প্যানিশ রাইটব্যাক। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আরও অগোছালো হয়ে যায় ফ্রান্স।
তিন মিনিট পর ব্যবধান প্রায় তিন গোল করে ফেলেছিলেন ইয়ামাল। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান তিনি। তবে সামান্য ব্যবধানে অফসাইড থাকায় গোলটি বাতিল হয়।
শেষ আধঘণ্টায় আক্রমণে উঠলেও স্পেনের রক্ষণকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি ফ্রান্স। এমবাপ্পের একটি শট কুকুরেয়ার গায়ে লেগে বাইরে যায়। চুয়ামেনির হেডও লক্ষ্য খুঁজে পায়নি। উনাই সিমোন একবার বক্সের বাইরে এসে বল নিয়ন্ত্রণে ভুল করলেও সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি দুয়ে।
ম্যাচের শেষ দিকে হতাশাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে ফরাসিদের খেলায়। ৮৬ মিনিটে সিমোনকে দেরিতে চ্যালেঞ্জ করে হলুদ কার্ড দেখেন এমবাপ্পে। তিন মিনিট পর তাঁর নেওয়া ফ্রি-কিকও চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ফ্রান্স। বিপরীতে বল দখলে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরুর আগেই তা থামিয়েছে স্পেন। সাত ম্যাচে এটি তাদের ষষ্ঠবার জাল অক্ষত রাখার ঘটনা।
ফাইনালে ওঠার পর পোরো এই জয়কে স্বপ্নপূরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের কোচ দেশম স্বীকার করেছেন, কৌশল ও টেকনিক্যাল সামর্থ্যে তাঁর দল স্পেনের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। নির্ভুলতা ও প্রাণশক্তির অভাবেই ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন তিনি।
রোববার নিউ জার্সিতে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে স্পেন। বাংলাদেশ সময় ফাইনাল শুরু হবে সোমবার রাত ১টায়। ফ্রান্স শনিবার মায়ামিতে খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী





