আর্জেন্টিনার জয়ের পর ভিএআর নিয়ে এত বিতর্ক কেন

আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের পরও থামছে না মিশর ম্যাচের বিতর্ক। শেষ ষোলোর ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ ভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
মাঠের ফলের চেয়েও এখন বেশি আলোচনায় কয়েকটি রেফারিং ও ভিএআর সিদ্ধান্ত। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশরের একটি গোল বাতিল এবং পরে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মিশরের পেনাল্টি দাবি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জিকোর গোল বাতিলের ক্ষেত্রে ভিএআর কত দূর পেছনে গিয়ে ঘটনাটি দেখেছে, সেটিই বিতর্কের বড় জায়গা।
মিশর কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, হয়তো মেসিকে বিশ্বকাপে রাখতে চেয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তিনি আরও বলেন, ফুটবলে কখনো কখনো মাঠের বাইরের বিষয়ও প্রভাব ফেলে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।
প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের মতামতও এসেছে। ক্রীড়া বিশ্লেষক সাইমন চ্যাডউইক বলেছেন, জিকোর গোল বাতিলের ভিএআর সিদ্ধান্তটি অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তার প্রশ্ন, মাঠের রেফারি যদি তাৎক্ষণিকভাবে ফাউল না দেখেন, তাহলে কয়েক মুহূর্ত পর ভিএআর কেন সেটি তুলল। তবে তিনি ম্যাচ পাতানোর গুঞ্জন সমর্থন করেননি।
অন্যদিকে ফুটবল বিশ্লেষক আলী এল গার্নি সিদ্ধান্তগুলোকে সরাসরি ডাকাতি বলতে চাননি। তার মতে, কয়েকটি সিদ্ধান্ত দুই দিকেই যেতে পারত, তবে ৫০-৫০ ঘটনাগুলোতে আর্জেন্টিনাই সুবিধা পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, মিশরের বাতিল গোলের আগে ফাউল ছিল, কিন্তু প্রশ্ন হলো গোলের বৈধতা যাচাই করতে ভিএআর কত দূর পেছনে যাবে।
মিশরের ক্ষোভ আরও বেড়েছে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে সম্ভাব্য ফাউল দাবি থেকে। তাদের অভিযোগ, মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে একই ধরনের একটি ঘটনায় ভিএআর হস্তক্ষেপ করেনি। এরপর পাল্টা আক্রমণ থেকেই এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল করেন।
তবে নিয়মের জায়গা থেকে বিষয়টি একটু আলাদা। আইএফএবির ভিএআর প্রোটোকল অনুযায়ী, গোলের আগে আক্রমণকারী দলের ফাউল, হ্যান্ডবল, অফসাইড বা বল বাইরে যাওয়ার মতো ঘটনা ভিএআর দেখতে পারে। পেনাল্টি বা নো-পেনাল্টির সিদ্ধান্তও ভিএআরের আওতায় পড়ে। কিন্তু মাঠের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হলে সেটি স্পষ্ট ভুল বা বড় মিসড ইনসিডেন্ট হতে হয়। তাই বিতর্ক থাকলেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করলেই সিদ্ধান্ত বদলাবে, এমন নয়।
সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা মাঠে জয় পেয়েছে, কিন্তু ম্যাচটি রেখে গেছে বড় বিতর্ক। ভিএআর ফুটবলে স্বচ্ছতা আনার জন্য এলেও এই ম্যাচ আবার দেখিয়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহারে ধারাবাহিকতা ও ব্যাখ্যার অভাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আর্জেন্টিনা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। আর মিশর বিদায় নিয়েছে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা অভিযান শেষে, তবে সঙ্গে নিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের দীর্ঘ ছায়া।




