Advertisement

বিশ্বকাপের আগে ইনজুরিতে আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড়

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বিশ্বকাপের আগে ইনজুরিতে আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড়
লিওনার্দো পারেদেস। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই চোটের ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনা। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে মাংসপেশির চিড় ধরা পড়েছে আলবিসেলেস্তারাদের তারকা মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের। এতে বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তার খেলা হচ্ছে না। শঙ্কা তৈরি হয়েছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলা নিয়েও।

বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার কয়েক দিন ধরেই হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চোটের প্রকৃতি ধরা পড়ে। শুরুতে বিষয়টি সাধারণ মাংসপেশির টান হিসেবে দেখা হলেও পরে নিশ্চিত হয়, পারেদেসের চোটটি তার চেয়ে গুরুতর।

আর্জেন্টিনার জন্য খবরটি অস্বস্তিকর। কারণ বিশ্বকাপের আগে ৬ জুন টেক্সাসে হন্ডুরাস এবং ৯ জুন অবার্নে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে লিওনেল স্কালোনির দল। এই দুই ম্যাচে পারেদেসকে পাওয়া যাবে না। চিকিৎসকদের ধারণা, তার সেরে উঠতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

এই সময়সীমা হিসাব করলে ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও পারেদেসের খেলা কঠিন। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি বড় ধাক্কা, কারণ মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা, বল নিয়ন্ত্রণ ও ম্যাচের গতি বুঝে খেলার ক্ষেত্রে পারেদেস স্কালোনির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্পদের একজন।

চোটের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল বোকা জুনিয়র্সের সর্বশেষ ম্যাচেই। কোপা লিবার্তাদোরেসে উনিভেরসিদাদ কাতোলিকার বিপক্ষে ম্যাচে তার শারীরিক অস্বস্তি চোখে পড়েছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই বিকল্প খেলোয়াড়দের ওয়ার্মআপ করানো হচ্ছিল, যেন প্রয়োজন হলে তাকে তুলে নেওয়া যায়। মাঠেও তার পারফরম্যান্সে চোটের প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

ম্যাচ শেষে পারেদেস নিজেই জানান, পুরো সপ্তাহ ধরে হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। কিন্তু ম্যাচটির গুরুত্বের কারণে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, অস্বস্তি থাকলেও এমন ম্যাচে বাইরে বসে থাকা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

চলতি বছর পারেদেসের শারীরিক সমস্যা নতুন নয়। ফেব্রুয়ারিতে প্লাতেন্সের বিপক্ষে গোড়ালির চোটে পড়েছিলেন তিনি। সেই চোটে রেসিং ও জিমনাসিয়া দে চিভিলকয়ের বিপক্ষে খেলতে পারেননি। এপ্রিলেও সুপারক্লাসিকোতে রিভার প্লেটের বিপক্ষে মাংসপেশির অস্বস্তির কারণে তাকে বদলি করা হয়েছিল।

বিশ্বকাপের আগে এমন চোট স্কালোনির মাঝমাঠ পরিকল্পনায় নতুন দুশ্চিন্তা যোগ করল। আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, জিওভানি লো সেলসো ও এক্সেকিয়েল পালাসিওসের মতো বিকল্প থাকলেও পারেদেসের অভিজ্ঞতা আলাদা। বড় ম্যাচে চাপ সামলানো, বল ধরে রাখা এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

আর্জেন্টিনা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের মূল কাঠামো ধরে রেখেই এবার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামছে। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রত্যাশাও অনেক। সেই সময়ে পারেদেসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের চোট দলকে সতর্ক করে দিচ্ছে।

স্কালোনির জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পারেদেস কত দ্রুত মাঠে ফিরতে পারেন। প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে না পাওয়া নিশ্চিত হলেও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে তার পুনর্বাসন কতটা এগোয়, সেটিই আর্জেন্টিনা শিবিরের নজরে থাকবে।