মেসিকে বেঞ্চে রেখে জর্ডান ম্যাচ শুরু করবে আর্জেন্টিনা

জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শুরু থেকে থাকছেন না আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপের চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা ম্যাচটি শুরু করবেন বেঞ্চে। তবে তাকে পুরোপুরি বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে না, ম্যাচের কোনো এক পর্যায়ে মাঠে নামানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘লিও বেঞ্চে শুরু করবে।’ প্রশ্নটি করেছিলেন ৯১ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন রেডিও সাংবাদিক এনরিকে মাকাইয়া মার্কেস, যিনি নিজের ১৮তম বিশ্বকাপ কাভার করছেন। তাকে উদ্দেশ করে স্কালোনি বলেন, ‘আপনি আন্তরিক উত্তর পাওয়ার যোগ্য বলেই আমি উত্তর দিচ্ছি।’
এরপরই আর্জেন্টিনা কোচ যোগ করেন, ‘লিও একটু পরে মাঠে নামবে।’ অর্থাৎ মেসিকে পুরো ম্যাচ বিশ্রামে রাখা হচ্ছে না। শেষ ৩২-এর আগে তার ছন্দ ধরে রাখার ভাবনাও আর্জেন্টিনা শিবিরে আছে।
গ্রুপ ‘জে’-এর প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দুই ম্যাচে দলের পাঁচ গোলের সবকটিই করেছেন মেসি। এই পারফরম্যান্সে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও শীর্ষে।
মেসি ২৪ জুন ৩৯তম জন্মদিন পালন করেছেন। জর্ডানের বিপক্ষে একেবারেই না খেললে শেষ ৩২-এর আগে দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের বাইরে থাকতে হতো তাঁকে। আর্জেন্টিনার শেষ ৩২-এর ম্যাচ ৩ জুলাই, মায়ামিতে। তাই পুরো বিশ্রামের বদলে তাকে কিছু মিনিট দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন স্কালোনি।
জর্ডান ম্যাচ আর্জেন্টিনার জন্য ফলের দিক থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। গ্রুপসেরা হওয়া নিশ্চিত হয়ে গেছে। তাই এই ম্যাচে দলের অন্য খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে চান স্কালোনি। তার মতে, যারা সব সময় সর্বোচ্চ চেষ্টা নিয়ে অনুশীলন করেন, তাদেরও খেলার সুযোগ প্রাপ্য।
স্কালোনি বলেন, ‘যারা কাল খেলবে, তারা খেলার যোগ্য। তারা দলের অংশ। অনুশীলনে আমরা এত পরিশ্রম করেছি তাদের কারণেই। যারা খেলছে না, তারাও সব সময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’
আর্জেন্টিনা কোচ আরও বলেন, ‘আমি সবাইকে মিনিট দিতে চাই। সুযোগ পেলেই দিই, কারণ তারা এটা পাওয়ার যোগ্য। তারাও দারুণ ফুটবলার।’
একাদশ বদলালেও দলের খেলার ধরন একই রাখার লক্ষ্য স্কালোনির। তাঁর ভাষায়, ‘কোচ হিসেবে স্বপ্ন হলো, কোন খেলোয়াড় আছে সেটি বিবেচনা না করেই দল যেন একইভাবে খেলতে পারে।’
স্কালোনি আরও বলেন, ‘জার্সি পরে মাঠে নামলে ম্যাচটি পয়েন্টের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কি না, সেটি বড় বিষয় নয়। জিততে হলে সেরাটাই দিতে হবে। প্রথম দিন আমরা যেমন ছিলাম, এখনো তেমনই আছি।’
এই ম্যাচে নিকো পাজকে মেসির জায়গায় শুরুতে দেখা যেতে পারে। জুলিয়ান আলভারেস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, লিয়ান্দ্রো পারেদেসদেরও বেশি মিনিট দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। চোট কাটিয়ে ফেরা কয়েকজনের ম্যাচ ফিটনেস বাড়ানোর দিকেও নজর থাকবে আর্জেন্টিনার।
রক্ষণেও বদল আসতে পারে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ডান হাঁটুতে সমস্যা নিয়ে মাঠ ছাড়েন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। তিনি জর্ডান ম্যাচে না থাকলে নিকোলাস ওতামেন্দিকে একাদশে দেখা যেতে পারে। গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার রক্ষণ বড় পরীক্ষার মুখে পড়েনি, তবে নকআউটের আগে এই জায়গায় ছন্দ ধরে রাখা জরুরি।
জর্ডান ইতিমধ্যে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা খেলবে সম্মান রক্ষার জন্য। তবু প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না স্কালোনি। তাঁর ধারণা, জর্ডান পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে গুছিয়ে রক্ষণ সাজাতে পারে।
স্কালোনি বলেন, ‘জর্ডান সাধারণত পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলে। যদি আমরা সমস্যায় পড়ি, তাহলে সামান্য ভিন্নভাবে খেলতে হতে পারে। প্রতিপক্ষ কীভাবে খেলে, তার ওপর নির্ভর করে কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের অন্য কিছু করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
জর্ডান কোচ জামাল সেল্লামিও আর্জেন্টিনাকে বড় সম্মান দিয়েছেন। তাঁর মতে, মেসি খেলুন বা না খেলুন, আর্জেন্টিনা শক্তিশালী দলই থাকবে। শেষ ম্যাচে তাঁর দল বিশ্বকে জর্ডানের ফুটবল ও সংস্কৃতির ইতিবাচক ছবি দেখাতে চায়।
শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। গ্রুপ ‘এইচ’-এর দ্বিতীয় দল হয়ে ইতিহাস গড়া আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির বিপক্ষে ম্যাচের আগে মেসিকে সতেজ রাখা আর্জেন্টিনার বড় লক্ষ্য। তাই জর্ডান ম্যাচে বেঞ্চে শুরু করলেও মেসিকে কিছু সময় মাঠে দেখা যাবে।
আর্জেন্টিনার জন্য হিসাবটা পরিষ্কার। গ্রুপসেরা হওয়া নিশ্চিত, নকআউট সামনে। এখন প্রয়োজন ছন্দ ধরে রাখা, গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ঝুঁকি কমানো এবং যারা অপেক্ষায় ছিলেন তাদের প্রস্তুত করা। জর্ডান ম্যাচে তাই মেসির বেঞ্চে থাকা শুধু বিশ্রাম নয়, বিশ্বকাপ ধরে রাখার দীর্ঘ পরিকল্পনারই অংশ।






