ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’, চীনে বজ্রঝড়ে আটজনের মৃত্যু

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’, চীনে বজ্রঝড়ে আটজনের মৃত্যু
চীনের হেংঝৌ শহরের শিয়াওয়ি টাউনের অন্তর্গত পিংশান গ্রামে ভয়াবহ বন্যার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

চীনে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে এটি এখন তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঝড়ের আশঙ্কার মধ্যে দেশের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে প্রবল বজ্রঝড়ে অন্তত আটজন মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সোমবার (৬ জুলাই) গুয়াম, তিয়ানিয়ান, সাইপান এবং রোটা দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করার সময় এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮০ মাইল। মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, দেশের বিভিন্ন অংশে আরও প্রচণ্ড বৃষ্টি হতে পারে। এই ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বসবাস। হুবেইয়ের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে হুয়াংশি, হুয়াংগাং, ইঝৌ এবং শিয়াননিং শহরের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার (৯২.৫৮ মাইল) বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে।

জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র আরও বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গুয়াংসি অঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু ও শানডং প্রদেশে ২৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই বিপুল বৃষ্টির কারণে সেখানে মারাত্মক ভূমিধস ডেকে আনতে পারে। এর পাশাপাশি চীনের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণের অন্যান্য এলাকাগুলোতে টর্নেডোর আশঙ্কা রয়েছে।

এই বৈরী আবহাওয়া চীনের কৃষিখাতে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হুবেই এবং শানডং দেশের অন্যতম প্রধান কৃষিপ্রধান প্রদেশ। চলমান ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ওই অঞ্চলের ভুট্টা, চিনাবাদাম ও শাকসবজি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই ফসলগুলো গমের চেয়ে সিজনের শেষের দিকে সংগ্রহ করা হয়। ফলে কৃষকেরা চরম লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট চরম আবহাওয়া চীনে প্রতি বছর শত শত কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করছে। সাম্প্রতিক বন্যায় দেশটির বিভিন্ন শহর প্লাবিত হয়েছে, ব্যাহত হয়েছে কলকারখানার শিল্পোৎপাদন এবং নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাঠের ফসল। আবহাওয়াবিদেরা এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন।