বন্যায় প্রাণ বাঁচাতে গর্ভবতী নারী গাছে উঠছেন দাবিতে প্রচার হচ্ছে হাওরে ভ্রমণের ভিডিও

‘গর্ভে ৯ মাসের সন্তান, তবুও জীবন বাঁচানোর জন্য গাছে উঠছেন একজন মা’ এমন দাবিতে একটি ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে এমন ঘটনা ঘটেছে দাবি করে পোস্টগুলো ছড়ানো হচ্ছে।
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
এছাড়াও, ভিডিওটি স্যাড (Sad) নামে একটি পেজ থেকে সর্বপ্রথম (২৬ আগস্ট ২০২৪) বন্যা পরিস্থিতিতে ছড়ানো হয়। সেসময় ‘গর্ভে ৯ মাসের বাচ্চা তবুও জীবন বাঁচানোর জন্য গাছে উঠছেন একজন মা’ ক্যাপশনে প্রচারিত ভিডিওটি এ পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লক্ষের বেশিবার দেখা হয়েছে। এছাড়াও ২০২৫ সালেও একই দাবিতে ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছিল।
তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে দাবিটি সত্য নয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বন্যায় জীবন বাঁচাতে গাছে ওঠার দৃশ্য নয়। বরং এটি অঞ্জনা নামে এক নারীর টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের সময় ধারণ করা ব্যক্তিগত ভিডিও।
ভিডিওটির কীওয়ার্ড ফেসবুকে সার্চ করে "অঞ্জনার জীবনের কথা" নামে একটি ফেসবুক পেজে মূল ভিডিওটি পাওয়া যায়। পেজটি থেকে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। একই সময়ে ওই পেইজে গাছের ওপর উঠে তোলা আরও কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করা হয়। তার পরিচালিত অন্য পেইজগুলোতেও একই ছবি পোস্ট রয়েছে।
এছাড়া "Life of Anjana" নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক প্রোফাইলেও ২০২৪ সালে একই ভিডিও পোস্ট করে অঞ্জনা নিজেই লেখেন, ‘‘গর্ভে ৯ মাসের বাচ্চা তবুও জীবন বাঁচানোর জন্য গাছে উঠেছেন একজন মা এসব ক্যাপশন দিয়ে যারা আমার ভিডিও আপলোড করেছেন তারা ভুয়া। ফেক পেজ ও আইডি, তাদের সবাই থেকে সাবধান।’’
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ জুলাই, তার পরিচালিত ‘জীবনের গল্প’ নামে আরেকটি ফেসবুক পেজ থেকেও একই ভিডিও পোস্ট করে তিনি আবারও বিষয়টি পরিষ্কার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘‘গর্ভে ৯ মাসের বাচ্চা, তবুও জীবন বাঁচানোর জন্য গাছে উঠেছেন একজন মা এটা মিথ্যা তথ্য। এটা টাঙ্গুয়ার হাওরের ভিডিও।’’
অর্থাৎ, ‘‘গর্ভে ৯ মাসের সন্তান নিয়ে বন্যায় জীবন বাঁচাতে গাছে উঠেছেন এক নারী’’ এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর। এটি মূলত টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের সময় ধারণ করা একটি পুরোনো ভিডিও।




