রাশেদ খানকে বিএনপির মারধর দাবিতে চার বছর আগের ছবি প্রচার

গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রাশেদ খানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। নিজ এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করেছে দাবি করা হচ্ছে এসব পোস্টে।
এ ধরনের একটি পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘আসল ঘটনা সে নিজের এলাকায় আকাম করে পালাতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়, জনতা তাকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে পরে ছেড়ে দেয়, জানা গেছে সে-ই জনতা স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ছিল বলে জানা যায়।’
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাশেদ খানেরই প্রোফাইলে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। গত বছরের (২০২৫ সালের) ১৮ ডিসেম্বর ভিন্ন একটি গুজবের প্রতিবাদে পোস্টটি করেন রাশেদ খান। এতে তিনি দাবি করেন, ২০২২ সালে নেত্রকোনায় ছাত্রলীগ কর্তৃক তার ওপর হামলার ছবি এটি। এই ছবির সঙ্গে একজন নারীর ছবি জুড়ে দিয়ে প্রচার করা হয় সেসময়। সে গুজব খণ্ডনের প্রতিবেদন দেখুন এখানে।
এ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চে সংবাদমাধ্যম বাংলাভিশনে ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদ এর সাবেক আহবায়ক হাসান আল মামুন কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় যায়। সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদ খানসহ অনেকেই ছিল। নেত্রকোনার মদনপুর বাজারে পৌঁছালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে হামলা করার চেষ্টা করে এ সময় তাদের কয়েকজনকে কিল-ঘুসি দেয়। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে হাসান আল মামুন তাদের বাড়িতে চলে যায়, কিছুক্ষণ পর বাড়িতে এসেও ছাত্রলীগের নেতারা হুমকি দিয়ে যায়।’
এ ছাড়াও প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ সম্পর্কিত সংবাদ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও রাশেদ খান তার ফেসবুক পেজে দাবিটি খণ্ডন করে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি প্রচারণার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে লেখেন, ‘নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ দ্বারা অতীতে আমার আক্রান্ত হওয়ার ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করছে জামায়াত-শিবিরের লোকজন।’
অর্থ্যাৎ, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতা ও বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রাশেদ খানকে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধরের দাবিটি সঠিক নয়। চার বছর আগে নেত্রকোনায় ছাত্রলীগের হামলার ছবি ব্যবহার করে দাবিটি ছড়ানো হচ্ছে।




