চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি দাবিতে ছড়িয়ে পড়ছে এআই দিয়ে তৈরি ছবি

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগে মৃতের সংখ্যা ৩৯ জনে পৌঁছেছে এবং বহু এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে। তবে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে ‘চট্টগ্রাম শহর ডুবে গেছে’ দাবি করে একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কিংবা সম্পাদনা করা হয়েছে।
প্রচারিত পোস্টগুলোর মধ্যে, আকাশ থেকে দেখানো (Aerial View) চট্টগ্রাম শহরের দুটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়াতে দেখা গেছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম শহরের একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ‘ডুবে গেছে দেশের বানিজ্যিক শহর চট্টগ্রামের বাঁশখালি।’ এ ধরনের ক্যাপশনে প্রচারিত একটি ছবিতে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (যা বর্তমানে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়ক’ নামে পরিচিত) -এর শুধুমাত্র জিইসি অংশ দেখা যাচ্ছে। ছবিটিতে এক্সপ্রেসওয়ের কিছু অংশ বাদে বাকি অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে এমন দেখানো হচ্ছে। এবং ছড়িয়ে পড়া অন্য একটি ছবিতে বন্যার পানিতে আশেপাশের ভবন ডুবে গেলেও ফ্লাইওভার বা এক্সপ্রেসওয়ে ডুবে যায়নি এমন পরিস্থিতি দেখা যায়।
তবে প্রচারিত ছবিগুলো ডিপএআই, জিরোজিপিটিসহ একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ সাইটে আপলোড করে ডিজিটালি সম্পাদনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে দ্বিতীয় ছবিটি উভয় সাইটেই ৯৭ শতাংশের বেশি এআই সম্পাদিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম ছবিটি ডিপএআই, আনডিটেক্টএভল এআইসহ অন্তত ৩টি সাইটে আপলোড করে এর ৪৮ শতাংশের বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় সম্পাদিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অর্থ্যাৎ, টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মধ্যে চট্টগ্রাম শহর ডুবে গেছে দাবিতে ছবিগুলো প্রচার করা হয়েছে। তবে এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ সাইটে আপলোড করে ছবিগুলো ডিজিটালি সম্পাদিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।




