কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় অধরা রয়ে গেছে বাংলাদেশের আম রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
তাদের ভাষ্য, স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণগত মানের কারণে বাংলাদেশের আম ইতোমধ্যে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিবছরই আমের উৎপাদন বাড়ছে। কিন্তু এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত মোট আমের মাত্র প্রায় ১ শতাংশ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্যাক হাউসের অভাব, দুর্বল কোল্ড-চেইন অবকাঠামো, মানসম্মত গ্রেডিং ও প্যাকেজিং ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (জিএপি) অনুসরণের সীমিত প্রয়োগ, পোকামাকড় ও রোগজনিত ক্ষতি এবং রপ্তানিমুখী উদ্যোক্তার স্বল্পতা—এসব কারণেই বাংলাদেশ আম রপ্তানিতে পিছিয়ে রয়েছে।
রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত এয়ার কার্গো স্পেসের সংকট, প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার সুবিধার অভাব, উচ্চ বিমান পরিবহন ব্যয়, বিমানবন্দরে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অন্যান্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দেশের সম্ভাবনাময় এই খাতকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে।
রপ্তানিকারকদের চোখে পিছিয়ে থাকার কারণ
রপ্তানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আম পরিবহনে বিমান ভাড়ার খরচ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বহু দেশে বাংলাদেশের আম রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সরকারি নীতিগত সহায়তার অভাবে রপ্তানিকারকেরা পিছিয়ে রয়েছেন।
তিনি বলেন, পচনশীল পণ্য, বিশেষ করে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে বিমান পরিবহনই একমাত্র কার্যকর মাধ্যম। কিন্তু বাংলাদেশের বিমান ভাড়া প্রতিযোগিতামূলক নয়। ভারতের নয়াদিল্লি থেকে লন্ডনে এক কেজি আম পাঠাতে যেখানে খরচ হয় প্রায় আড়াই ডলার, সেখানে ঢাকা থেকে একই গন্তব্যে পাঠাতে লাগে প্রায় পাঁচ ডলার।
জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি সুবিধাসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত ঘাটতি দ্রুত দূর করা না গেলে আম রপ্তানির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।
বিএফভিএপিইএর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর এশিয়া পোস্টকে বলেন, রপ্তানিকারকেরা পর্যাপ্ত এয়ার কার্গো স্পেস পাচ্ছেন না। উচ্চ পরিবহন ব্যয় এবং বিশেষ করে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) সুবিধার অভাব আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে দুর্বল করছে।
তিনি আধুনিক ট্রিটমেন্ট ও প্রসেসিং সুবিধা গড়ে তুলতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানান।
বাম্পার উৎপাদনের প্রত্যাশা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ২৭ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে ডিএইর নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
এ বছর প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। মে মাসে শুরু হওয়া আম সংগ্রহ মৌসুম অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। দেশের প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর ও রংপুর।
এশিয়া পোস্টের রাজশাহী প্রতিনিধি মোস্তাফিজ রকি জানান, ডিএইর তথ্য অনুযায়ী রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর—এই চার জেলা দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদন অঞ্চল। এখানে আম্রপালি, ক্ষীরশাপাতি, হাড়িভাঙ্গা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, কাটিমন, ফজলি ও বারি-৪সহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হয়।
তিনি জানান, উৎপাদন বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কম থাকায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। তাই রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে লাভজনক বাজার তৈরির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে এশিয়া পোস্টের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি গাজী ফারহাদ জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ হেক্টর বেশি।
চলতি মৌসুমে জেলায় ৭০ হাজার ৩৮০ থেকে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের আশা, রপ্তানি বাড়লে তারা আরও বেশি লাভবান হবেন।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, শীত শেষে সময়মতো তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, ভালো মুকুল আসা এবং তুলনামূলক কম ফল ঝরে পড়ার কারণে এ বছর উৎপাদনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাগানেও ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা।
ধীরে ধীরে বাড়ছে রপ্তানি
ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে ২১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হলেও রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৩০৯ টন।
২০১৯-২০ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে প্রায় ২৫ লাখ টনে পৌঁছায়, যদিও রপ্তানি ছিল মাত্র ২৮৩ টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৩ লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদনের বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ৭৫৭ টন।
২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন রেকর্ড ২৭ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছায় এবং রপ্তানিও সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১০০ টনে উন্নীত হয়। পরবর্তী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে ২৫ লাখ ৯ হাজার টনে নেমে আসে এবং রপ্তানি কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩২১ টনে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ২৬ লাখ ৭০ হাজার টন আম উৎপাদিত হয়। একই সময়ে রপ্তানি বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৯৪ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি। তবে এটি এখনও ২০২২-২৩ অর্থবছরের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেনি। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে অন্তত ৩ হাজার টন আম রপ্তানি সম্ভব বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।
যেসব দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের আম
বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্তত ৩৮টি দেশে আম রপ্তানি করে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপই সবচেয়ে বড় বাজার। রপ্তানিযোগ্য জনপ্রিয় জাতের মধ্যে রয়েছে ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও বারি-৪। মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই আম্রপালি জাতের।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ ২৬টি দেশে আম রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে গেছে ৬৮৬ টন, সৌদি আরবে ৩৫৬ টন, ইতালিতে ২৬৪ টন, কুয়েতে ১৬৭ টন এবং কাতারে ১৬৩ টন।
যুক্তরাজ্যে মূলত দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের চাহিদার কারণে বাংলাদেশের আমের বাজার তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের পাশাপাশি স্থানীয় ভোক্তাদের মধ্যেও এর চাহিদা বাড়ছে।
বাংলাদেশ নতুন বাজারও সম্প্রসারণ করছে। গত বছর প্রথমবারের মতো চীনে ৩ টন আম রপ্তানি করা হয়। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৫ টনে পৌঁছায়। একই সঙ্গে জাপান ও মালয়েশিয়ার বাজারেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াও বাংলাদেশ থেকে আম আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
এদিকে জাপান প্রতিবছর ভারত থেকে প্রায় ৪৫ টন আম আমদানি করত, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলার। তবে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্টসহ পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগে এ বছর ভারত থেকে আম আমদানি স্থগিত করেছে দেশটি।
রপ্তানিকারক ও সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়বে।
সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ
ক্রমাগত অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের আম রপ্তানি খাত এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রপ্তানিকারকদের মতে, উচ্চ বিমান পরিবহন ব্যয় সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি। গত বছর বিমান ভাড়া দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে গেছে।
এ ছাড়া ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট সুবিধাসহ আন্তর্জাতিক মানের রপ্তানি অবকাঠামোর ঘাটতিও বড় প্রতিবন্ধকতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, প্রসেসিং, মাননিয়ন্ত্রণ, সনদায়ন এবং আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা উন্নত না হলে রপ্তানি সম্ভাবনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২১ থেকে ২২ লাখ টন তাজা আম রপ্তানি হয়েছে। অথচ বছরে ২৫ লাখ টনের বেশি আম উৎপাদন করেও বাংলাদেশ সেই বাজারের মাত্র ০.১ শতাংশের অংশীদার।
কৃষি বিজ্ঞানীদের ধারণা, বর্তমানে বাংলাদেশের আম রপ্তানির সক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার টন। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, মাননিয়ন্ত্রণ এবং বাজার সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে এ সক্ষমতা ৮ হাজার টনে উন্নীত করা সম্ভব।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, উন্নত চারা সরবরাহ এবং আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনার ফলে উৎপাদন বাড়ছে। একই সঙ্গে পণ্যের মান উন্নয়ন ও নতুন বাজার সম্প্রসারণেও সরকার কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘এক্সপোর্টেবল ম্যাঙ্গো প্রোডাকশন প্রজেক্ট’-এর পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে এখন আরও বেশি রপ্তানিযোগ্য মানের আম উৎপাদিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের আম চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানান, আম রপ্তানির জন্য পর্যাপ্ত এয়ার কার্গো স্পেস নিশ্চিত করা এবং বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছে।
তার মতে, বিশ্বের বড় বড় আম আমদানিকারক দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে বাণিজ্য, কৃষি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশের আমের স্বাদ ও সুগন্ধ ইতোমধ্যে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভোক্তাদের মন জয় করেছে। এখন সরকারকে রপ্তানি বহুগুণ বাড়াতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের পরিচালক এবং ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের সাবেক উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষি, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কৃষক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগই পারে বাংলাদেশের আম রপ্তানিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এই বিশাল সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে।
আম রপ্তানি বৃদ্ধির আরও উপকারিতা
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বলেছেন, আম রপ্তানি বাড়লে এর সাথে নানা ধরনের ইতিবাচক সুফল মিলবে। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। জিএপি (GAP) পদ্ধতি অনুসরণ করে উৎপাদিত রপ্তানিযোগ্য মানের আম স্থানীয় মানুষও ভোগ করতে পারবেন, ফলে তাদের পুষ্টির মান উন্নত হবে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই আমের চাষাবাদ সম্প্রসারিত হবে, যা বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এতে পরিবেশ আরও সবুজ হবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব হ্রাস করতেও এটি সহায়ক হবে।




