‘রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো হোমওয়ার্ক ছিল না’

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
‘রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো হোমওয়ার্ক ছিল না’
হাসনাত কাইয়ূম। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সমস্যা ছিল যারা দায়িত্ব নিয়েছেন, রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট পূর্বপ্রস্তুতি বা ‘হোমওয়ার্ক’ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ হাসনাত কাইয়ূম।

তিনি বলেন, ‘সরকারের সদস্যরা রাষ্ট্র সংস্কারের ভাবনার (আইডিয়া) সঙ্গে আগে থেকে যুক্ত ছিলেন না। সংস্কার কীভাবে করতে হয় বা কোন পদ্ধতিতে করলে এটি টেকসই হবে, সে সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। অথচ যারা এ বিষয়ে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন, তাদের পরামর্শ না নিয়ে উল্টো উপেক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘আলাপন’-এ উপস্থিত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

হাসনাত কাইয়ূম জানান, সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা ছিল খুবই সুনির্দিষ্ট। প্রথমত, একটি ‘কমন মিনিমাম’ সংস্কার কর্মসূচি নির্ধারণ করা এবং দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে রক্তপাতহীনভাবে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের একটি স্থায়ী পদ্ধতি তৈরি করা।

তিনি বলেন, “আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা হোক, যারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করবে। সরকার আমাদের প্রস্তাব আংশিক গ্রহণ করলেও সংস্কারের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর।”

সরকারের সময়ক্ষেপণের সমালোচনা করে এই রাজনৈতিক চিন্তাবিদ আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল ছয় মাসের মধ্যে মৌলিক বিষয়গুলোর ফয়সালা করা। কিন্তু সরকারের এই বিষয়গুলো বুঝতেই ১৮ মাস পার হয়ে যাচ্ছে। আমরা ১২ তারিখেই একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি দিয়েছিলাম যে কীভাবে ছয় মাসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি।’

সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে এখন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।