গণভোটের রায় ‘বাইপাস’ করার অভিযোগে সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াক আউট

গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ নরুল ইসলাম মনি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তোলার পর তা প্রত্যাখ্যান করে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান তারা।
এদিকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়।
গঠিত কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সদস্যরা হলেন: চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন, শাকিলা ফারজানা ও মাহমুদুল হক রুবেল, গণসংহতি আন্দোলনের সংসদ সদস্য জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বিজেপির সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ।
এ ছাড়া কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির জন্য পাঁচটি সদস্যপদ খালি রাখা হয়েছে। বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপনের পর তা কণ্ঠভোটে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এদিকে, বিশেষ কমিটি গঠনের প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এ সময় তারা জানান, এই কমিটির ধারণাগত ভিত্তিই তারা গ্রহণ করেন না; তাই এতে সদস্য দেওয়ারও কোনো প্রশ্ন আসে না।
সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের সময় বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণ করবে না।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিরোধীদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ সাংবিধানিকভাবে অবৈধ। আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, তারপর সংস্কার পরিষদের আলাপ হতে পারে।
অন্যদিকে, চিফ হুইপ নরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দল, জোট ও স্বতন্ত্র সদস্যদের নিয়ে এই বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এতে বিএনপির ৭ জন, বিরোধী দলের ৫ জন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র থেকে ১ জন করে সদস্য রাখার পরিকল্পনা ছিল।





