
চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত ২ শতাংশ কোটাও বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। শতভাগ মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এই প্রস্তাবনা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা এই দুটি কোটা বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে চলতি সপ্তাহে শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক এবং দেশের নামী কলেজগুলোর অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আরও বড় পরিসরে একটি বৈঠক ডেকে সেখানে আলচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি অনেকগুলো প্রস্তাব দিয়ে একটি ভর্তি নীতিমালা তৈরি করেছে। যেটি আজ শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে কোটা পদ্ধতি বাতিলের বিষয়টিও ছিল। এছাড়াও বিদ্যমান পদ্ধতি ছাড়াও ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই এবং লটারিতে বাছাই করার মতো পদ্ধতি ছিল। তবে কোনটি চূড়ান্ত হবে সেটি আরেকটি সভা করে চূড়ান্ত হতে পারে।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের নেপথ্যে যুক্তি
বর্তমানে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে মোট ৭ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রয়েছে। যার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য। ভর্তি প্রক্রিয়ার কারিগরি দায়িত্বে থাকা বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পর্যাপ্ত যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি।
বুয়েটের তথ্যমতে, সরকারি গেজেট অনুযায়ী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারিত হয়েছে ১২ বছর ৬ মাস এবং বর্তমানে একজন জীবিত মুক্তিযোদ্ধার সর্বনিম্ন বয়স ৮০ বছর ৭ মাসের বেশি। এই বাস্তবতায় তাদের সন্তানদের কলেজ ভর্তিতে না পাওয়াটাই স্বাভাবিক। অনেক ক্ষেত্রে নাতি-নাতনিরা এই কোটায় আবেদন করলেও পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে না পারায় জটিলতায় পড়েন এবং ভালো জিপিএ থাকা সত্ত্বেও পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ হারান।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের জন্য বিশেষ কোটা থাকাকে সরাসরি বৈষম্য হিসেবে দেখছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানান, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকেই তা পূরণ করা হয়। তবে নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ মহল ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
বহাল থাকছে জিপিএ
সভা সুত্র জানায়, ভর্তি পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা বা লটারির মতো বিকল্প পদ্ধতির প্রস্তাব দিলেও সভায় তা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। মূলত ভর্তি বাণিজ্য ও নানা তদবির রোধে লটারি বা পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে পূর্বের মতো জিপিএ-র (GPA) ভিত্তিতেই ভর্তি প্রক্রিয়া চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে চলে আসা অনলাইন ও স্বয়ংক্রিয় ভর্তি পদ্ধতিকেই আরও নিখুঁতভাবে কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মেধার ভিত্তিতে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভর্তির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ দূর হবে।





