ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে কূটনীতিতে জোর

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর ভূমিকা আরও কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে অর্থনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, স্থিতিশীল দীর্ঘমেয়াদি কর কাঠামো এবং খেলাপি ঋণ চিহ্নিত করতে ফরেনসিক আর্থিক নিরীক্ষাভিত্তিক পুনঃমূলধনীকরণ পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তার মতে, এসব উদ্যোগ নিয়মভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও বাণিজ্য, শিল্প, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, এসএমই ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিদেশি মিশন, জাতিসংঘ, আইএমএফ, আইএফসি, ইউএনডিপি, ইউনেস্কো, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সংলাপ বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে সরকারের সঙ্গে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে তারা ঐকমত্য প্রকাশ করেন।
.png)






