Advertisement

শেকৃবিতে পরিচয় জানতে চাওয়ায় আনসার সদস্যকে পেটালেন ছাত্রদলের জিল্লুর

এশিয়া পোস্ট নিউজ, শেকৃবি
শেকৃবিতে পরিচয় জানতে চাওয়ায় আনসার সদস্যকে পেটালেন ছাত্রদলের জিল্লুর
জিল্লুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে (ফার্স্ট গেট) দায়িত্বরত এক আনসার সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৯ জুলাই) ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে, গত ২১ জুলাই দুপুরে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত জিল্লুর রহমান শেকৃবির ৭৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আহমেদুল কবির তাপসের অনুসারী হিসেবেও পরিচিত। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশী হিসেবেও তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান ফটকে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আবুল হাসান রিকশাযোগে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা জিল্লুর রহমানের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে আনসার সদস্য তার পরিচয়পত্র দেখতে চান। এ সময় দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে জিল্লুর রহমান আনসার সদস্যকে চড়-থাপ্পড় মারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার সময় আনসার সদস্য কোনো প্রতিরোধ করেননি।

ভুক্তভোগী আনসার সদস্য আবুল হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, তিনি শিক্ষার্থী কি না। তিনি নিজেকে শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে হলে যাওয়ার কথা বলেন। এরপর পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে জানান, আইডি কার্ড সঙ্গে নেই। তখন আমি বলি, আপনি মিথ্যা বলছেন না তো? এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আমার ইউনিফর্মের কলার চেপে ধরে পাঁচ থেকে ছয়টি থাপ্পড় মারেন। পরে বলেন, ডাক তোর জাবের বাপকে, ডাক তোর ইউনূস বাপকে। আমার ফেস চিনে রাখ।

এদিকে অভিযুক্ত জিল্লুর রহমান দাবি করেন, ঘটনাটি ভুল-বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। আমি নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও আনসার সদস্য আমাকে মিথ্যাবাদী বলেন এবং আইডি কার্ড দেখতে চান। আমি জানাই, আইডি কার্ড সঙ্গে নেই। এরপর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে আমি আনসার সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বিষয়টি পারস্পরিকভাবে মিটমাট হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আহমেদুল কবির তাপস এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত। নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল। তবে আমি অসুস্থ থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। তাই দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সে অর্থে প্রযোজ্য নয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আরফান আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি। উভয়পক্ষকে মুখোমুখি বসিয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।