প্রেমের প্রস্তাব না মানায় হুমকি, ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ছুরি ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হুমকি এবং মানসিকভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী। ভুক্তভোগীও একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত বিভিন্নভাবে তাকে উত্ত্যক্ত, হয়রানি ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও তিনি নিরস্ত না হয়ে বারবার চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত জোরপূর্বক ভুক্তভোগীকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী আবারও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত একটি ছুরি বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং তার কাছে পিস্তল রয়েছে বলেও হুমকি দেন। পরে তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত তাকে মেসে পৌঁছে দিতে সম্মত হন। কিন্তু পথিমধ্যে রুয়েট এলাকা থেকে তাকে আবারও পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। দীর্ঘ সময় কান্নাকাটির পর শেষ পর্যন্ত তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত ফোনে তাকে আত্মহত্যার ভয় দেখান। পাশাপাশি অভিযুক্তের এক সহযোগী ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মহসিন আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। প্রমাণ মিললে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী বা নির্দোষ বিবেচনা করা ঠিক হবে না। আমাদের জানা মতে, অভিযুক্ত ছাত্রদলের কোনো সক্রিয় কর্মী বা নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কেউ নন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীকাল দুপুর ১২টায় অভিযুক্তকে তলব করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






