Advertisement

ইবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ইবি
ইবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগে মুক্তিযোদ্ধা কোটার নামে এক ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত ভর্তি নথিতে নাম না থাকলেও ওই শিক্ষার্থী একটি সেমিস্টারজুড়ে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেন। ফলাফল প্রস্তুতের সময় বিষয়টি ধরা পড়লেও এখনও কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি বিভাগে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভুয়া ভর্তি হন শামিমা আক্তার। তার শ্রেণি রোল দেওয়া হয়েছিল ২৪১০১০৪। ক্লাস ও প্রথম সেমিস্টারের সব পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ফলাফল প্রস্তুত করতে গিয়ে সফটওয়্যারে তার রোল নম্বরের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা কমিটি তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে বিষয়টি ধরে এবং গত ১১ জুলাই জরুরি সভা ডাকে। সভায় ভর্তি-সংক্রান্ত কোনো বৈধ নথি না থাকায় ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী ভেরিফিকেশনের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা একাডেমিক শাখায় অফিশিয়াল চিঠি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা না করে মৌখিকভাবে তথ্য যাচাই করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রোববার (২৬ জুলাই) ইংরেজি বিভাগ ফের জরুরি সভা ডেকে পুরো বিষয়টি উপাচার্যকে অবহিত করা এবং দুই কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র কাজ করেছে। কারণ ইংরেজি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সর্বশেষ নিবন্ধিত রোল ছিল ২৪১০১০৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও বিভাগীয় কম্পিউটারে জালিয়াতি করে ২৪১০১০৪ রোল যোগ করে শামিমা আক্তারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অভিযুক্ত শামিমা আক্তারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্বামী ও একই বিভাগের ছাত্র ইয়াছিন বলেন, শুরুর দিকে সে ক্লাস করে মজা পেয়ে গিয়েছিল, তবে ভর্তির বিষয়ে আমাকে কিছু জানায়নি। বিভাগের সভাপতি তাকে ডাকলে সে নিজের ভুল স্বীকার করেছে।

উপ-রেজিস্ট্রার ইসরাত জাহান বলেন, ওই শিক্ষার্থী এক বান্ধবীকে নিয়ে এসে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির কথা জানায় এবং ২৪১০১০৪ রোল নম্বর বলে। যাচাই না করেই এন্ট্রি দেওয়াটা আমার ভুল হয়েছে, তবে এটিকে ইচ্ছাকৃত গাফিলতি বলা যাবে কি না জানি না।

বিভাগীয় সভাপতি ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ জানান, যেহেতু কোনো সনদ দেওয়া হয়নি, তাই শিক্ষকমণ্ডলীর মতামতের ভিত্তিতে মানবিক দিক বিবেচনায় স্টাফদের সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।