ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে জোর করে ইবিতে ঢুকে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ইবি
ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে জোর করে ইবিতে ঢুকে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা
জোরপূর্বক গেট খুলে ইবি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ট্রাক ও শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে শোডাউন করেছেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিঠুর নেতৃত্বে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বাজিয়ে এ শোডাউন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দিলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী ও আনসার সদস্যদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে তারা জোরপূর্বক প্রধান ফটক খুলে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

এর আগে ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাফিজ আহমেদও শোডাউনের জন্য গেট খোলা রাখতে বলেছেন বলে অভিযোগ নিরাপত্তাকর্মীদের।

জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিঠু এবং শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রকিবুজ্জামান রকির নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ জন আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আসেন। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই তারা ট্রাক ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী ও আনসার সদস্যরা তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এসময় ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের পাশাপাশি তাদের তুলে নেওয়ার হুমকিও দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে আনসার সদস্যরা সরে দাঁড়ালে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা জোরপূর্বক প্রধান ফটক খুলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে তারা উচ্চশব্দে সাউন্ড বাজিয়ে পুরো ক্যাম্পাসে উদ্মাদনা সৃষ্টি করেন।

দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের দাবি, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঠিক আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের এক নেতা প্রধান ফটক খোলা রাখতে এবং শোভাযাত্রাটিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়ার নির্দেশ দেন। শুরুতে ওই নেতার নাম জানাতে না পারলেও পরে ছবি দেখানো হলে তারা ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাফিজ আহমেদকে শনাক্ত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বাস থেকে নেমে দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অনেক লোকজনের ভিড়। সেখানে একটি ছোট ট্রাক ও শতাধিক মোটরসাইকেল ছিল। কিছুক্ষণ পর একটি দল আনসার সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। পরে একজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় আমি প্রধান ফটক আটকে দিই। তখন একজন নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমরা এখানকার সাবেক শিক্ষার্থী। আমরা ঢুকব, মিছিল করব, তুই সরে যা।’

দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা বলেন, প্রথমে একজন মোটরসাইকেলে এসে আমাদের বলেন, লোকজন এলে যেন প্রধান ফটক খোলা রাখা হয়। বিষয়টি আমরা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানাই। তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। পরে আমরা প্রধান ফটকে নিরাপত্তা জোরদার করি। কিন্তু শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আমাদের সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করে জোরপূর্বক প্রধান ফটক খুলে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এতে কয়েকজন আনসার সদস্য আহত হন। পরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সরে দাঁড়াই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের নিরাপত্তা সেলের শাখা কর্মকর্তা আশরাফ বলেন, ঘটনার শুরুতে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, এর আগে ছাত্রদলের একজন নেতা আনসার সদস্যদের প্রধান ফটক খোলা রাখতে বলেছিলেন। তবে প্রক্টরের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা গেট খুলে না দিলে কয়েকজন তাদের ‘ধরে বেঁধে নিয়ে যাবে’ বলে হুমকি দেন। পরে তারা এলোপাতাড়ি ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাফিজ আহমেদ বলেন, ‘আমি আনসার সদস্যদের আমার ব্যক্তিগত অতিথিদের জন্য প্রধান ফটক খোলা রাখতে বলেছিলাম। তবে কোনো শোডাউন বা মিছিলের জন্য গেট খুলে দেওয়ার কথা বলিনি।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শৈলকূপা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিঠুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়ে আমার কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। আমি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছি। এ ঘটনায় প্রক্টোরিয়াল বডি আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।