Advertisement

যবিপ্রবিসংলগ্ন স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ দাবি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, যবিপ্রবি
যবিপ্রবিসংলগ্ন স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ দাবি
মেহেরুল্লাহনগর রেলস্টেশন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নিরাপদ, সময়সাশ্রয়ী ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসসংলগ্ন মেহেরুল্লাহনগর রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালুর দাবি জানিয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতের ভোগান্তি দূর হতে পারে মাত্র দুই মিনিটের একটি ট্রেন স্টপেজে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন হলেও এই স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষও সরাসরি উপকৃত হবেন।

সম্প্রতি এ দাবিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

উত্তরাঞ্চল, রাজশাহী, খুলনা ও চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের এখন যশোর রেলস্টেশনে নামতে হয়। সেখান থেকে ব্যাগপত্র নিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কপথ পাড়ি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে সময় ও অর্থ— দুটোই অতিরিক্ত খরচ হয়। ট্রেনের সিডিউলের সঙ্গে স্থানীয় পরিবহনের মিল না থাকায় বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া নিরাপত্তারও ঝুঁকি তৈরি করে। অথচ মেহেরুল্লাহনগর স্টেশন থেকে যবিপ্রবি ক্যাম্পাসের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার।

১৯৫১ সালে প্রখ্যাত সমাজসংস্কারক কর্মবীর মুন্সি মেহেরুল্লাহর নামে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেশনটি একসময় যাত্রীদের পদচারণায় মুখর থাকত। বর্তমানে খুলনাগামী একটি লোকাল ট্রেন ছাড়া কোনো আন্তঃনগর ট্রেন এখানে থামে না। স্টেশন মাস্টার বা কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। স্টেশনটি পুনরায় চালু হলে যশোর শহরের ওপর যাতায়াতের চাপ যেমন কমবে, তেমনি প্রাণ ফিরে পাবে এলাকাটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. আসাদুল্লাহ আল গালিব জানান, সড়কপথের ঝুঁকি এড়াতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর সুবিধার্থে মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনকে সচল করা একটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও নিরাপদ সমাধান।

এ ছাড়াও তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থী ও জনবান্ধব এই দাবিটি বর্তমান সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হলে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ বলেন, বুধবার ও শুক্রবার মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের মাত্র দুই মিনিটের স্টপেজ দেওয়া হলে যাত্রীভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। এতে খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা সহজেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।

বিশেষ করে রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরা মেহেরুল্লাহনগর থেকে রাতের সীমান্ত এক্সপ্রেসে উঠতে পারলে দীর্ঘ সময় যশোর শহরে অপেক্ষা করার প্রয়োজন হবে না বলে জানান তিনি।

যবিপ্রবির জিইবিটি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি। যশোর রেলস্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়, অথচ ট্রেনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়েই চলে যায়। মাত্র দুই মিনিটের একটি স্টপেজ হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

যশোর জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, স্টেশনটি অনেক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। অনেকেই এটি চালুর দাবি জানিয়ে থাকেন। তবে বর্তমানে বিষয়টি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী-খুলনা) চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি। পরবর্তীতে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।