বর্ষা উদযাপন ও বন্যার্তদের সহায়তায় চারুকলায় ‘ঘনঘটা ২’

বর্ষার আবহ ও শত শত নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় শ্রাবণের দ্বিতীয় দিনে হলো বর্ষা উদযাপন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় বর্ষাবরণ নৃত্যানুষ্ঠান ‘ঘনঘটা ২’। এ অনুষ্ঠানে বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করা হয়।
আর্থি আহমেদ ড্যান্স একাডেমি ও ঢাবির চারুকলা অনুষদের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে ৩ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৩০০-এর বেশি নৃত্যশিল্পী অংশ নেন। বিভিন্ন বয়সী ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে বকুলতলা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রণাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলার লোক ঐতিহ্যভিত্তিক ১৬টি নৃত্য পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়। খোলা আকাশের নিচে বর্ষার আবহে একের পর এক পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকেরা।

আয়োজকরা জানান, বর্ষাকে বরণ করে নেওয়া এবং বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই ‘ঘনঘটা’র আয়োজন। এবারের আয়োজনে প্রায় ৩০০ নৃত্যশিল্পী অংশ নেন।
উৎসবের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আকর্ষণ ছিল দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা—ছাতা ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে এবং বৃষ্টিতে একসঙ্গে ভিজেই বর্ষাকে বরণ করতে হবে। আয়োজকদের মতে, প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার এই ভাবনাই ‘ঘনঘটা’র মূল দর্শন।
আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাকেও ছিল নির্দিষ্ট রঙের সমন্বয়। নারীদের নীল, সবুজ কিংবা সাদা শাড়ি এবং পুরুষদের পাঞ্জাবি পরিধানের আহ্বান জানানো হয়, যা পুরো আয়োজনকে দেয় এক অনন্য নান্দনিক আবহ।
এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহ। অনুষ্ঠানে জাগো ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দুটি অনুদান বুথ স্থাপন করা হয়। সেখানে দর্শনার্থীরা স্বেচ্ছায় অনুদান দিয়ে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান।
.png)






