মাজারে ‘শিকল সাঁইজি’ সেজেও শেষ রক্ষা হলো না লিটনের

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
মাজারে ‘শিকল সাঁইজি’ সেজেও শেষ রক্ষা হলো না লিটনের
রাজধানীর শাহ-আলী মাজার থেকে গ্রেপ্তার ‘শিকল সাঁইজি’ খ্যাত লিটন। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মানিক লাল ডোম হত্যা মামলার দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পলাতক অন্যতম প্রধান আসামি লিটন (৪৮) অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছে। মাজারকেন্দ্রিক ‘শিকল সাঁইজি’ পরিচয়ে আত্মগোপনে থেকেও শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে পারেনি সে। রাজধানীর শাহ-আলী মাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-৪ জানায়, বুধবার রাতে (১৫ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর শাহআলী থানাধীন শাহ-আলী মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মাগুরা সদর থানায় দায়ের হওয়া মানিক লাল ডোম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভিকটিম মানিক লাল ডোম মাগুরা সদর উপজেলার হাসপাতালপাড়া (ডোমপাড়া) এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ২০২১ সালের ২৯ জুন রাতে তিনি তার ৯ বছর বয়সি ছেলে সানবাবুকে নিয়ে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে শিশু সানবাবু তার বাবাকে ঘরের মেঝেতে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর দ্রুত এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ছায়া তদন্ত শুরু করে।

গাঁজার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে হত্যাকাণ্ড

এর আগে মামলার আরেক আসামি মেহেদী হাসান আকাশ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার নেপথ্যের কারণ তুলে ধরে। জবানবন্দিতে তিনি জানান, গাঁজা বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে মানিক লালের সঙ্গে ঝন্টু, লিটন সাঁইজি এবং অন্যদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরেই ২০২১ সালের ৩০ জুন গভীর রাতে তারা ঘুমন্ত মানিক লালের ঘরে প্রবেশ করে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

‘শিকল সাঁইজি’ পরিচয়ে আত্মগোপন

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই লিটন নিজেকে আড়াল করতে দেশের বিভিন্ন মাজার এলাকায় ‘শিকল সাঁইজি’ পরিচয়ে অবস্থান করতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে স্থান পরিবর্তন করে সে আত্মগোপনে ছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের মাধ্যমে অবশেষে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে শাহ-আলী মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।