‘উত্তরার সব মদের বার প্রত্যাহার করতে হবে’, ডিএমপি কমিশনারকে সেলিম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের উদ্দেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির এবং ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, পরিস্থিতি ও উত্তেজনা উদ্বেগজনক হওয়ার আগেই উত্তরা থেকে সব মদের বার আপনাকে প্রত্যাহার করে নিয়ে যেতে হবে। লাইসেন্সবিহীন যত মদের বার আছে, সেগুলো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আর যেখানে-সেখানে মদের বারের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না; এ ব্যাপারে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, যদি বিদেশিদের জন্য বা অন্য কোনো কারিগরি (টেকনিক্যাল) কারণে মদের বারের প্রয়োজন হয়, তবে তা জনসম্মুখে করা যাবে না; ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে আঘাত লাগে এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
যারা জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে বলেন, তাদের নিজেদের দলের কৃতকর্মের জন্য অন্তত শতবার ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন এই জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করে দলটিকে ঘায়েল করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, সংসদে নতুন কিছু ‘মুফতি’র আবির্ভাব হয়েছে, যারা জামায়াতে ইসলামী প্রকৃত ইসলাম নয় বলে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে জামায়াতকে দুর্বল করা যাবে না। সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দিয়ে জাতির সঙ্গে মশকরা করা হচ্ছে।
সরকারকে উদ্দেশ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, পলাতক শেখ হাসিনার সহযোগীদের কথায় চললে পরিণতি ভালো হবে না। হাসিনার স্বৈরাচারী পথে হাঁটলে তার খেসারত দিতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি পুরোনো নেতিবাচক রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চান, যার প্রশংসা জামায়াত সংসদেও করেছে।
মাদকবিরোধী বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের অসাধু রাজনীতিকরা মাদকমুক্ত সমাজ চান না; কারণ সমাজ মাদকমুক্ত হলে তারা নিজেদের অন্যায় কাজের জন্য কর্মী খুঁজে পাবেন না। উত্তরার পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মদের বার বন্ধ করতে হবে, তাহলেই উত্তরা নিরাপদ ও মাদকমুক্ত হবে।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে ২৫টি ডিজিটাল অ্যাপ উদ্বোধন করা হবে, যার মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাজের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা তরুণদের। কিন্তু বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি ও বিলাসিতার প্রবণতার কারণে অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আধুনিকতার নামে অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
মাদকাসক্তদের প্রতি ঘৃণা নয়, বরং সহমর্মিতা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও সামাজিক সহযোগিতা জরুরি। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও মাদক নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা উচিত। ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় কোনো পরিবারের সন্তান মাদকাসক্ত হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।
উত্তরা পশ্চিম অঞ্চলের পরিচালক ও মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং মহানগরী যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা ও ডা. ফখরুদ্দিন মানিকসহ আরও অনেকে।






