টানা বৃষ্টি ও ঢলে গাইবান্ধায় নদীর পানি বৃদ্ধি, পৌর শহরে জলাবদ্ধতা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, গাইবান্ধা
টানা বৃষ্টি ও ঢলে গাইবান্ধায় নদীর পানি বৃদ্ধি, পৌর শহরে জলাবদ্ধতা
টানা বৃষ্টিতে গাইবান্ধায় পৌর শহরে জলাবদ্ধতা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে উত্তরের জনপদ গাইবান্ধা পৌর শহর প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। শহরের বেশ কিছু সড়কের ওপর দিয়ে বৃষ্টির পানি উপচে পড়ায় চরম জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়াসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মাঝে বন্যা ও ভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলিতে হাঁটু পানি জমে গেছে। গাইবান্ধা মহিলা কলেজের ছাত্রী নাজমুন্নাহার বলেন, রাস্তার ওপর দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ২০ টাকার রিকশা ভাড়া এখন ৫০ টাকা দিতে হচ্ছে।

গাইবান্ধা সরকারি কলেজের ছাত্র আশরাফুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটু পানি জমে গেছে। যদিও বৃষ্টি থামলে পানি সরে যাবে, কিন্তু এমন বৃষ্টি গত কয়েক বছর দেখিনি।

পৌরসভার মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা আহসান কবির বলেন, বৃষ্টির কারণে আমাদের বাসার বাইরে যাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে পৌর শহরের অনেক বাসা-বাড়িতে পানি প্রবেশ করবে।

অপরদিকে উজান থেকে পানি আসায় তিস্তা নদীবেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া (সুন্দরগঞ্জ) পয়েন্টেন্টে ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কমেছে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি। ফুলছড়ি পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঘাঘট নদীর পানি ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৬৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী পয়েন্টে ৫৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ মিলিমিটার এবং ৪৮ ঘণ্টায় ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।