কালীগঞ্জে ২৫ দিনে ১৫ গরু চুরি, আতঙ্কে কৃষকরা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় গরু চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। সবশেষ তিন দিনে উপজেলার তিনটি গ্রাম থেকে অন্তত পাঁচটি গরু চুরি হয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন কৃষক ও খামারিরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও চোরচক্রকে ধরতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে দুটি গাভি ও একটি বাছুরসহ তিনটি গরু চুরি হয়। একই রাতে মেগুরখির্দা গ্রাম থেকে আরও একটি গরু চুরি হয়। এর আগের দিন ৯ জুলাই ঈশ্বরবা গ্রামের আইয়ুব হোসেনের গোয়ালঘর থেকে একটি গরু চুরি হয়। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চলাচলের দৃশ্য পাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে জানা গেছে।
রবিউল ইসলাম বলেন, তিনটি গরুই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। দুধ বিক্রি করেই সংসার চলত। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। আইয়ুব হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট করে গরু পালন করি। কিন্তু এক রাতে চোরেরা সব নিয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে গরু পালন ছেড়েই দিতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ধারাবাহিক গরু চুরির ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় চোরচক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার জন্য অনেক এলাকায় গ্রামবাসী রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন।
এর আগে গত ১৫ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ২৬ জুন দিবাগত রাতে আগমুন্দিয়া গ্রামের সৈয়দ আলীর বাড়ি থেকে পাঁচটি গরু, ২০ জুন ভাদঘারা গ্রামের আব্দুস ছালামের বাড়ি থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু এবং ১৫ জুন একই গ্রামের নায়েব আলীর প্রায় চার লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরি হয়।
২৫ জুন রাতে ভাদঘারা গ্রামের বাসিন্দারা গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে গরু চুরির কোনো আলামত না পাওয়ায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ৫৪ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে পাঠায়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, গরু চুরির ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।




