হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ছয় হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৮ হাজারের বেশি মানুষ। দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে পানি কিছুটা কমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষ নিরাপদে চলে গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়া এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বন্যার পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল স্রোতে নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা গবাদিপশু, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, কাপড়-চোপড় ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার অনেকে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন।
শুক্রবার দুপুরে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অতি বৃষ্টি ও দুর্বল বাঁধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং প্রশাসনসহ আমাদের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল থেকেই বাঁধটি মেরামতের কাজ শুরু করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজও শুরু হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। মুড়ি, চিড়া, আলু, ডাল, বিস্কুট ও মোমবাতির সমন্বয়ে শুকনা খাবারের প্যাকেট ইতোমধ্যে দুর্গত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হবিগঞ্জে প্রায় ছয় হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ১৪০ জন। দুর্গত মানুষের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হবিগঞ্জ সদর উপজেলার জন্য পৃথকভাবে এক লাখ টাকা এবং ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।





