নদীতে বিলীন হচ্ছে সড়ক, দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ

টানা কয়েক দিনের বর্ষণ আর মধুমতি নদীর তীব্র স্রোতে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের কার্পেটিং সড়কের প্রায় ৫০ গজ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ। এ ছাড়া ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে স্থানীয় একটি মসজিদ ও গোরস্তান।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ফসলি জমির পানি সড়কের ওপর দিয়ে নদীতে প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি মধুমতি নদীর তীব্র স্রোতের কারণে সড়কটির প্রায় ৫০ গজ অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে দেউলী, যশোবন্তপুর, কালিশংকরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দেউলী গ্রামের নদীতীরবর্তী সড়কের বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। যে সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করত, সেখানে এখন সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ। বাধ্য হয়ে অনেকে কাঁধে সাইকেল তুলে কিংবা ধসে যাওয়া অংশের পাশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন।
এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। ঝামা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ঝামা বরকাতুল উলুম কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই অংশ পার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ঝামা গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। রাতে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। সন্তানরা স্কুলে গেলে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত অভিভাবকদের চরম উৎকণ্ঠায় থাকতে হয়।
অটোভ্যান চালক আরিফুল ইসলাম বলেন, জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই কাদার ওপর দিয়ে গাড়ি ঠেলে পার হতে হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই তীররক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতি বছরই নদী আবাদি জমি ও সড়ক গ্রাস করছে। আমরা শুধু অস্থায়ী মেরামত নয়, দ্রুত স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ চাই।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, সড়কটির ক্ষতির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানটিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
.png)





