Advertisement

সেনাবাহিনীর স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ ১ দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সেনাবাহিনীর স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ ১ দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ
মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

সেনাবাহিনীর স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ১ দফার ঘোষণা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ২টা ২২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে মাহফুজ আলমের ভূমিকা সম্পর্কে আব্দুল কাদের তথ্য প্রকাশের পর মাহফুজ আলম শিবিরের ঘরে সব অবদান তুলে দিয়ে নিজেকে কায়দা করে সেইফ করার চেষ্টা করল। কিন্তু এর আগে সে কখনও শিবিরের ভূমিকা স্বীকার করেনি। ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছে, অসহযোগ আন্দোলনে কি কি থাকবে, তার একটা খসড়া সাদিক কায়েমকে রেডি করে দিতে বলি, যা আসিফ পরের দিন পাঠ করে। কিন্তু এটাকে ঘুরিয়ে জামায়াতের সংগ্রাম পত্রিকা লিখেছে, ওই রাতেই সাদিক কায়েমকে দিয়ে এক দফা ঘোষণার একটি খসড়া তৈরি করা হয়, যা আসিফ মাহমুদ পাঠ করে!’

গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা এ নেতা লেখেন, ‘কীভাবে বয়ান সৃষ্টি করতে হয়, জামায়াত খুব ভালো করেই জানে। অথচ ১ দফার ঘোষণা আসিফ মাহমুদ নয়, নাহিদ ইসলাম পাঠ করে। আর আসিফ অসহযোগ আন্দোলনের পালনের দিকনির্দেশনা পাঠ করে।’

শিবিরের যতটুকু অবদান, ততটুকুর ক্রেডিট নিলে সমস্যা নেই জানিয়ে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘কিন্তু অতিরঞ্জিত করতে গেলেই গণ্ডগোল তৈরি হবে। গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাদিক কায়েম সালমান পরিচয়ে কাজ করত, এটাই চিরন্তন সত্য। কিন্তু এখন যদি বেশি ক্রেডিটের জন্য বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাদিক কায়েম পরিচয়েই সাদিক কায়েম কাজ করত, তা হবে অসত্য! ঠিক ক্রেডিটের বিষয়গুলো এই রকম। যার যতটুকু অবদান, ততটুকুর বেশি দাবি করার সুযোগ নেই।’

রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘মাহফুজ আলম লিখেছে, ‘২ তারিখ রাতেই অনলাইনে ১ দফা ঘোষণার আমরা সবাই বিপক্ষে ছিলাম। ৩ তারিখ জনসমক্ষে শহীদ মিনারে ঘোষণা দেওয়ার পক্ষে ছিলাম। কারণ, রাতের ঘোষণার চাপ একটি নির্দিষ্ট কোয়ার্টার থেকে এসেছিল।’ এই কোয়ার্টার বলতে মাহফুজ আলম ক্যান্টমেন্টকে বুঝিয়েছে, যা এর আগে নাহিদ ইসলামও বলেছিল।’

সেনাবাহিনীর স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরই নাহিদ ইসলাম ১ দফার ঘোষণা করেছে মন্তব্য করে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা, ২ আগস্ট সেনাবাহিনীর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় যে, ৩ আগস্ট সব সিনিয়র অফিসারদের নিয়ে মিটিং, এরপর ৩ আগস্ট দুপুর বেলা সেনাপ্রধান বলেন যে, সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালাবে না? এটা কি মিথ্যা? সেনাবাহিনীর এই বক্তব্য কি জনতাকে সাহস জোগায়নি? মূলত ১ আগস্ট সেনাবাহিনী সিদ্ধান্ত নেয় জনগণের পক্ষে অবস্থান করার।’

তার মতে, কার্যত ১ আগস্টেই শেখ হাসিনার পতন হয়ে যায়। সেই সিগনাল শেখ হাসিনাসহ মোটামুটি সব এমপি মন্ত্রীরা পেয়ে যায়। যে কারণে ওই সময় থেকেই সব পালানো শুরু করে।

গণ-অভ্যুত্থানে ক্যান্টনমেন্টেরও অনেক ভূমিকা আছে জানিয়ে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘আমি রুপক অর্থে সেনাবাহিনীর ভূমিকা বা অবদান বোঝাতে গিয়ে এটি বলেছি যে, স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ ইসলাম ১ দফার ঘোষণা করেছিল। আশা করি বক্তব্য বুঝতে পেরেছেন। এখানে নাহিদ ইসলামেরও ভূমিকা আছে, সেনাবাহিনীরও ভূমিকা আছে।’

গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রশিবিরসহ সব ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও জনতার ভূমিকা আছে বলে জানান তিনি।

১ দফার ঘোষণার সিদ্ধান্ত সম্মিলিত সিদ্ধান্তে নেওয়া হয় জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘এখানে হয়তো কারও অবদান বেশি, কারও অবদান কম। কিন্তু ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত হাসনাত ও সারজিস ডিসিশন বা পলিসি মেকিংয়ের মধ্যে ছিল না। সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে যাওয়ার কারণেই সন্দেহের জায়গা থেকে তাদের দূরে রাখা হয়। আব্দুল কাদেরের বক্তব্য সত্য কি মিথ্যা তা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের, রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার বলুক।’