Advertisement

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: নয়াদিল্লি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: নয়াদিল্লি
রণধীর জয়সোয়াল ও শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সব আইনি দিক এবং বিচারিক প্রক্রিয়াগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ)।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।

জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি প্রত্যর্পণের অনুরোধ পেয়েছি। আগেও আমরা যেমনটি বলেছি, অনুরোধটি সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত সব আইনি বিষয় এবং বিচারিক প্রক্রিয়া মেনেই বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রিপাবলিকের প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, বাংলাদেশের আদালতে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে সাজা ঘোষণার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে ঢাকা। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের মাঝে নতুন করে নয়াদিল্লির এই সতর্কবার্তা সামনে এলো। দিল্লির মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আগেও একাধিক অনুষ্ঠানে পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ভারত সব অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকার পাশাপাশি শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক অবস্থা এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে আরেক সাংবাদিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দেওয়া বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়ে জানতে চান, বাংলাদেশ আরও এক ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি বর্তমানে ভারতের পুলিশের হেফাজতে আছে, যিনি বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন রাজনীতিবিদকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। এ বিষয়ে আপনাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে সেটার বর্তমান অবস্থা কী?

জবাবে জয়সোয়াল জানান, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। প্রত্যাবর্তনের যেকোনো অনুরোধ আইনগত বিষয় ও বিচারপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থান ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। তখন থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

স্বৈয়রাচার, নির্বাচনে অনিয়ম এবং আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের গুরুতর অভিযোগের মধ্যে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। পরে ২০২৬ সালে ফেব্রয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়।

শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম আনুষ্ঠানিক ‘নোট ভার্বাল’ বা কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়েছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এরপর ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) একটি রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই রায়ের পর ঢাকার পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণের একটি নতুন ও তাজা অনুরোধ পাঠানো হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সফরের সময় ঢাকা এই দাবি জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করে। এই অনুরোধগুলোতে মূলত ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির ধারাগুলোকে উল্লেখ করা হয়েছে।