ঘাট ছাড়ার ১০ মিনিট পর ফেরি ঘুরিয়ে তোলা হলো এমপি হান্নানকে

নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে ছেড়ে যাওয়ার ১০ মিনিট পর ফোন পেয়ে মাঝনদী থেকে ফেরি ঘুরিয়ে তোলা হলো স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদকে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলের দিকে এ ঘটনা ঘটে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে ফেরি ফিরিয়ে আনার এমন ঘটনায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টায় চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশে রওনা হয় ফেরি ‘মহানন্দা’। কিন্তু ফেরি ছেড়ে যাওয়ার প্রায় ২৩ মিনিট পর গাড়ি নিয়ে চেয়ারম্যান ঘাটে উপস্থিত হন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এমপি নদী পার হয়ে হাতিয়া যাবেন তাই তার নেতাকর্মীরা ফেরি পুনরায় ঘাটে ভিড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধে মেঘনা নদীর মাঝপথে থাকা ফেরিটি ঘুরিয়ে পুনরায় চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে এমপি তার সঙ্গীদের নিয়ে ফেরিতে উঠলে ‘মহানন্দা’ পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির বলেন, ‘ফেরির মাস্টার প্রথমে আমাকে জানান ফেরি ছাড়বে না। পরে আবার জানান বিকেল সাড়ে ৩টায় ছাড়বে। কিন্তু ছাড়ার পর ২৩ মিনিটের মধ্যে ফেরি আবার ঘাটে ফিরে আসে।’
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে মাঝনদী থেকে ফেরি ঘুরিয়ে আনায় চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কে পড়েন নৌপথের সাধারণ যাত্রীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন বৈরী আবহাওয়ায় আমরা ভয়ের মধ্য দিয়ে নদী পার হচ্ছি, তার ওপর এমপি তার ক্ষমতার দাপট দেখালেন! আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে আমাদের হাতিয়া পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে যেত। তা ছাড়া ফেরি ঘুরে আসতে যে সময় নষ্ট হয়েছে, ততক্ষণে আমরা নলচিরা ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছে যেতাম।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘাট থেকে ছাড়ার আনুমানিক ১০ মিনিট পর এমপির জন্য ফেরি ঘুরিয়ে ঘাটে নিয়ে আসা হয়। ভিআইপিদের ক্ষেত্রে এমন কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।’
তবে দায় এড়িয়ে ফেরি মহানন্দার মাস্টার নুরুল আমীন বলেন, ‘আমি অত কিছু জানি না। ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আমাকে জানান ঘাটে এমপি এসেছেন, তাই ফেরি ঘুরিয়ে তাকে নিয়ে যেতে হবে। নির্দেশ পেয়ে আমরা ঘাটে ফিরে এমপিকে নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশে রওনা হই।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গভীর রাতে (পৌনে ১টার দিকে) আব্দুল হান্নান মাসউদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি কেবল বলেন, ‘এগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই, চলুক।’





