কক্সবাজারে পাহাড়ধসে দুই দিনে ১১ প্রাণহানি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কক্সবাজার
কক্সবাজারে পাহাড়ধসে দুই দিনে ১১ প্রাণহানি
টানা বৃষ্টিতে বড়ছড়া এলাকায় পাহাড় ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। ছবি : এশিয়া পোস্ট

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনায় এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে কক্সবাজারে গত দুই দিনে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার।

নিহত নাসিমা আক্তার (২৭) সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের (৪০) স্ত্রী। এ ঘটনায় নাসিমার স্বামী ও এক সন্তান গুরুতর আহত হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে টানা বৃষ্টিতে বড়ছড়া এলাকায় পাহাড় ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা নাসিমা আক্তার, তার স্বামী ও সন্তান মাটির নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই নির্দেশনা মানেননি। এর জেরেই এই দুর্ঘটনা। আজ বিকেল থেকেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উচ্ছেদ ও বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার অভিযান শুরু হবে।

এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কক্সবাজারে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। আজ বৃষ্টির মূল কেন্দ্র চট্টগ্রাম অঞ্চল হলেও কুতুবদিয়া, চকরিয়াসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) রাতেও টানা বর্ষণে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে আটজনই রোহিঙ্গা নাগরিক। একই দিন দুপুরে পেকুয়া উপজেলায় পাহাড় ধসে বসতঘরের দেয়াল চাপা পড়ে সাত বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়।

টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় কক্সবাজারের পাহাড়ঘেরা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন থেকে এসব এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।