Advertisement

মেছোবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়া হলো মায়ের কাছে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চুয়াডাঙ্গা
মেছোবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়া হলো মায়ের কাছে
বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সদস্যরা উদ্ধার হওয়া দুটি মেছোবিড়ালের বাচ্চাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের হুলিয়ামারী গ্রামে বাঁশবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি মেছোবিড়ালের বাচ্চাকে অক্ষত অবস্থায় মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে একটি পরিবেশবাদী সংগঠন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুলিয়ামারী গ্রামের ঈদগাহের পাশের এক বাঁশবাগানে কাজ করার সময় কৃষক মিরাজ দুটি বাঘসদৃশ বাচ্চা দেখতে পান। তিনি বিষয়টি স্থানীয় আরও কয়েকজনকে দেখান। তবে তারা বাচ্চা দুটিকে না মেরে সেগুলোর মায়ের আগমনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে মিরাজ পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ’-এর সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যার প্রভাষক আহসান হাবিব শিপলুকে খবর দেন।

সংবাদ পেয়ে প্রভাষক শিপলু সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চা দুটি পাহারায় রাখেন। কিছু সময় অপেক্ষার পর মেছোবিড়ালটির মা এসে একটি বাচ্চাকে মুখে করে নিয়ে যায়। তবে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও অপর মাদী বাচ্চাটিকে নিতে না আসায় তাদের অপেক্ষার প্রহর বাড়ে। অবশেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মা মেছোবিড়ালটি পুনরায় ফিরে এসে দ্বিতীয় বাচ্চাটিকেও নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে প্রাণিবিদ্যার প্রভাষক আহসান হাবিব শিপলু বলেন, মেছোবিড়াল কৃষকের ও প্রকৃতির পরম বন্ধু। আমাদের অঞ্চলে একে বাঘডাশ বা বাঘরোল বলা হয়ে থাকে। কেবল বাঘের মতো ডোরাকাটা অবয়ব হওয়ার কারণে মানুষ এটি দেখামাত্র মেরে ফেলে। অথচ একটি মেছোবিড়াল তার জীবদ্দশায় ক্ষতিকর ইঁদুর খেয়ে কৃষকের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ফসল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। তা ছাড়া বাস্তুতন্ত্রে এর অবদান অনস্বীকার্য। মানুষের সচেতনতার ফলেই আজ বাচ্চা দুটি প্রকৃতিতে ফিরে যেতে পারল। কৃষক মিরাজকে ধন্যবাদ জানাই, তার বুদ্ধিমত্তার কারণেই এই সফলতা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মেছোবিড়াল সংরক্ষণে কাজ করে আসছে। সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতাই পারে প্রকৃতিতে মেছোবিড়ালের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে।

বাচ্চা দুটিকে প্রকৃতির কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় সংগঠনের সদস্য সাহাবুল, নিরব, উজ্জ্বল, রনি, সুমনসহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।